প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন সেন্ট-ডেনিস কালচারাল সোসাইটি, রানার্সআপ জেনারেশন গ্রুপ

ছবি: আগামীর সময়
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে লা কোরনভের একটি মাঠে দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গতকাল রবিবার সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্ট, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিনোদনমূলক নানা কর্মসূচি ছিল। প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় আনন্দঘন মিলনমেলায়।
উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল ফুটবল টুর্নামেন্ট। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে সেন্ট-ডেনিস কালচারাল সোসাইটি চ্যাম্পিয়ন এবং জেনারেশন গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে। খেলা শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদেরও পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজন করা হয় দৌড়, মোরগ লড়াইসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মধ্যে বেলুন ফোটানো, মোরগ লড়াই ও রশি টানাটানি দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। প্রতিযোগীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবস্থলে তৈরি হয় আনন্দের পরিবেশ।
খেলাধুলার পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। অংশগ্রহণকারীদের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্রাঙ্কো-বাংলা সোশিও কালচারাল সোসাইটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম। ক্রীড়া উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, কমিউনিটি নেতা গোলাম ফারুক ভূঁইয়া, জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান, কামরুল ইসলামসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অতিথিরা বলেছেন, প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে খেলাধুলার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও জোরদার হয়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলা এ উৎসবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।




