যেসব কারণে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন আটক

সংগৃহীত ছবি
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল বলে জানা গেছে গোয়েন্দা সূত্রে।
ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধানের মধ্যেই গতকাল বুধবার রাতে ডিজিএফআইয়ের সাবেক এ শীর্ষ কর্মকর্তাকে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শেখ মামুন ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষদিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, শেখ মামুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, এক-এগারোর সরকারের সময় তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এখন ডিজিএফআইয়ের সাবেক এ কর্মকর্তাকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই আদেশ দেন। সে সময় দুদক তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।
ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শেখ মামুনকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ডিজিএফআই সাবেক এ মহাপরিচালককে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।
এর আগে গত সোমবার রাতে এক-এগারোর কুশীলবদের অন্যতম লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মানব পাচারের একটি মামলায় বর্তমানে তিনি পুলিশি রিমান্ডে আছেন।

