বাংলাদেশ ও মিসরের বৈঠক : শিক্ষার উন্নয়নে যৌথ সহযোগিতার তাগিদ

সংগৃহীত ছবি
লন্ডনে চলমান বিশ্ব শিক্ষা ফোরাম- ২০২৬ এর সাইডলাইনে বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ও মিসরের শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আহমেদ আবদেল লতিফ।
গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ-২ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় বৈঠকটি। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক।
বৈঠকে ব্যাপক পরিসরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা।
করোনা-পরবর্তী সময়ে মিসরের প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশের ওপরে নিয়ে যাওয়ার সফল কৌশল তুলে ধরেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সামাজিক আস্থা ফিরিয়ে এনে এই সাফল্য পেয়েছে মিসর।
বাংলাদেশও বর্তমানে জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক মুখস্থ বিদ্যার বৃত্ত থেকে বের হয়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ নাগরিক তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির মতো মেগা প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে এই রূপান্তর গতিশীল করা হচ্ছে।
বৈঠকে পাঠ্যক্রম সংস্কার ও পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিকীকরণ বিষয়েও আলোচনা করেছেন তারা। উভয় দেশই শিক্ষাক্রম থেকে মুখস্থ নির্ভরতা কমিয়ে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষায় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয় বৈঠকে।
মিসরের শিক্ষামন্ত্রী তার দেশে নতুন করে চালু হওয়া ‘মিসরীয় ব্যাকালোরেট’ প্রোগ্রাম চালুর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দৈনিক ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রযুক্তিগত সংস্কার (যেমন সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ) এবং সাধারণ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত না করে প্রতি উপজেলায় ডেডিকেটেড ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয়।




