হাদি হত্যার আসামিদের ফেরাতে ‘যোগাযোগ চলছে’

সংগৃহীত ছবি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেপ্তার হন গত ৭ মার্চ। এর পরপরই তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে সরকার। এ ঘটনার পেরিয়েছে দুই সপ্তাহ।
এর মধ্যে আরেক আসামি ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। এখনও তিন আসামিকে জেরায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চাওয়া কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেয়নি ভারত।
এর মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম আজ জানালেন, ভারতে গ্রেপ্তার আসামিদের ফেরাতে যোগাযোগ চলছে। তবে যোগাযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে মেলেনি কোনো তথ্য।
রবিবার (২২ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ তথ্য জানালেন ডিবি প্রধান।
১৪ দিন রিমান্ড শেষে রবিবার দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালতে তোলা হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিবি প্রধানের জবাব, ‘এটি বহুবার বলেছি যে, মামলাটি এখন সিআইডির কাছে আছে। সিআইডি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসামিদের ফেরানোর বিষয়ে আমি যতদূর জানি যে যোগাযোগ করছে।’
আজ আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ। সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।’
হাদি হত্যাকাণ্ডের সময় আপনি বাংলাদেশে ছিলেন কি না, এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ছিলাম... আপনারা যে হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশের মানুষ যে হাদি হাদি করছে, হাদি তো জামায়াতের প্রোডাক্ট।’
হাদি হত্যা মামলার তিন আসামির বিষয়ে গত ১৬ মার্চ কথা বলেছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদে।
‘বাংলাদেশের চাওয়া কনস্যুলার অ্যাক্সেস এখনও প্রক্রিয়াধীন। অ্যাক্সেস পেলেই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেখানে যাবে আমাদের প্রতিনিধিদল।’
‘আমাদের সরকার সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছে, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেতে এবং তাদের ফেরত আনতে। আমাদের তরফ থেকে সম্পূর্ণ চেষ্টা চলছে, আমরা আশা করছি, ভারত আমাদের সহযোগিতা করবে’- প্রত্যাশা করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রথম দফায় গত ৯ মার্চ দুই আসামির জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়ে আবেদন করে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। তৃতীয় আসামিকে গ্রেপ্তারের খবরে আরেক দফা দেয়া হয় আবেদন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও পরে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পান ওসমান হাদি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দিয়েছিলেন নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়।
প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। দুইদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। গত ১৮ ডিসেম্বর আসে তার মৃত্যুর খবর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে হাদিকে।
গুলির ঘটনার দুইদিন পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টার মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। ডিবি পুলিশের তদন্তে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি দেওয়া হয় অভিযোগপত্র। আসামিদের মধ্যে আছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের মা-বাবা-স্ত্রী-শ্যালক ও বান্ধবী।
ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে গত ১৫ জানুয়ারি অসন্তোষ জানিয়ে না-রাজি দাখিল করেন মামলার বাদী জাবের। আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতে’ আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগীরা হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে।

