সাংবাদিক রেজানুরকে গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

সংগৃহীত ছবি
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে দায়ের করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ।
আজ শনিবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এ ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।’
প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদের জের, অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গ্রেপ্তার
১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশিত সংবাদে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকারের বিদ্যমান কাঠামোর কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, তিনি রাষ্ট্রের যে পদেই অধিষ্ঠিত থাকুন না কেন, আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার পাওয়ার জন্য দেশে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাতে পারেন, যা এ ধরনের অভিযোগের বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠিত আইনসম্মত প্রতিষ্ঠান। একইভাবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিজেও মামলা করে প্রতিকার চাইতে পারেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি।’
আগের সরকারের আমলের উদাহরণ টেনে সম্পাদক পরিষদ বলছে, ‘এ ঘটনায় একজন সাংবাদিকের করা মামলায় আরেকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির এমন প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমান ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই উদ্বেগজনক ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটল।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাগারে পাঠানোর প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মো. রেজানুর ইসলামের মুক্তি দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ। এতে বলা হয়, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবর্তে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায়, বিশেষত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রতিকার ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে সম্পাদক পরিষদ।’






