প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদের জের, অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গ্রেপ্তার

মো. রেজানুর ইসলাম।
সাইবার সুরক্ষা ও চাঁদাবাজির মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। গ্রেপ্তার রেজানুর ইসলাম গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার বসুরা গ্রামের বাসিন্দা।
আজ শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
‘বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুর্নীতিবাজ প্রতিমন্ত্রীর জালিয়াতি ফাঁস’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ১৭ জুন বগুড়া সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন বাংলা টিভির বগুড়া ব্যুরোপ্রধান তানভীর আলম রিমন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, বগুড়া প্রতিবেদক শামস এবং জেলা প্রতিনিধি মো. সাব্বির হাসান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ফেসবুক পেজে গত ৪ মে ‘দুর্নীতির বিতর্কে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে মানহানিকর মিথ্যা, ভুয়া তথ্য প্রকাশ করে। ১১ জুন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ফেসবুক পেজ থেকে ‘বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুর্নীতিবাজ প্রতিমন্ত্রীর জালিয়াতি ফাঁস’ শিরোনামে মানহানিকর মিথ্যা, ভুয়া তথ্য প্রকাশ করেছে। পরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করলে ১২ জুন ওই পত্রিকায় প্রচার হয় ‘‘এবার সাংবাদিকের উপদেশ দিলেন ‘রাস্তা কাণ্ডে’ বিতর্কিত - প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।’’
এজাহারে আরও বলা হয়, এসবের ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতির সময় পত্রিকার সম্পাদক মেহেদী হাসান হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করেন তানভীর আলমের কাছে। চাঁদা না দিলে মন্ত্রীর সঙ্গে তানভীর আলমকেও মানহানি করবেন বলে হুমকি দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেজানুরের এক স্বজন জানান, আজ রেজানুরের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন বিচারক।
পেশায় আইনজীবী এই স্বজনের ভাষ্য, রেজানুরকে ৩৮৫ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অথচ এজাহারে কোথাও তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই।
বগুড়া ডিবি কার্যালয়ের ইনচার্জ ইকবাল বাহার জানিয়েছেন, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই রহমাতুল্লাহ মানিক গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে গাছা থানায় অভিযান পরিচালনা করেন। পরে রাত ১১টার দিকে বোর্ডবাজার এলাকা থেকে রেজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠান বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এই সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার আগে তানভীর আলম রিমন একই ঘটনায় গত ১৩ জুন আরেকটি মামলা করেছিলেন বগুড়া সদর আমলি আদালতে। ওই মামলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানির অভিযোগ করা হয়েছিল।
কিন্তু আদালত সূত্র জানিয়েছে, তানভীর আলমের করা সেই মামলার শুনানিতে আইনের কয়েকটি ধারার সমস্যা ছিল। সেই ধারা সংশোধন করার জন্য সদর আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান মামলাটি ফিরিয়ে দেন। কিন্তু বাদীপক্ষ ধারা সংশোধন করে মামলা আবার রুজু করেনি বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র।




