আগামীর সময়

একুশে পদক পাচ্ছেন প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান

একুশে পদক পাচ্ছেন প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান

প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান

২০২৬ সালের জন্য রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে বিশেষ অবদান রাখায় বরেণ্য লেখক ও প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান এই পদক পাচ্ছেন।


এছাড়াও দেশের শিল্প, সাহিত্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন গুণী ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে (ব্যান্ড দল ওয়ারফেজ) এই পদক প্রদান করা হচ্ছে।


বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


শফিক রেহমান ১৯৩০ সালে ১১ নভেম্বর বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টিভি উপস্থাপক ও লেখক হিসেবে পরিচিত। তাকে বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবসের প্রচলক হিসেবে মনে করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের পক্ষে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। ১৯৮৪ সালে তিনি সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন; যা সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমালোচনার জন্য পরিচিত ছিল।


১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকার যায়যায়দিনের ডিকলারেশন বাতিল করার পর তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন। পরে ইংল্যান্ডে তিনি স্পেকট্রাম রেডিও-এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে তিনি ডেমোক্রেসি ওয়াচ নামক একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ লাল গোলাপ নামক একটি টক শো উপস্থাপনা করতেন, পরবর্তীকালে যা বাংলাভিশনে প্রচার শুরু হয়।


পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়েন বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমান। এরই অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। এই মামলায় ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন শফিক রেহমান। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০১৮ সালে দেশ ছাড়েন শফিক রেহমান।


এদিকে ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর পর ১৮ আগস্ট দেশে ফেরেন বিশিষ্ট এই সাংবাদিক।


পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় অন্যদের মধ্যে আছেন— প্রখ্যাত অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা ও মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। এছাড়া চারুকলা ক্যাটাগরিতে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্য ক্যাটাগরিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম, লোকজ সংস্কৃতিতে ইসলাম উদ্দিন পালাকার, শিক্ষায় প্রফেসর মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যস, নৃত্যে অর্থি আহমেদ। এছাড়া সঙ্গীতে (দলীয়): জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘ওয়ারফেজ’-এর নাম এই পদকের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে।


নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার।

    শেয়ার করুন: