মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে জোরালো হচ্ছে কণ্ঠ

৫ আগস্টে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মাজার ভাঙার ঘটনা ঘটছে। মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে মানুষজন আহতও হয়েছে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভেন্ট খুলেও মাজার ভাঙার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত গোলাপশাহ মাজার ভাঙতে ‘গুলিস্তানে গোলাপশাহ মাজার ভাঙা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছিল, যাতে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ সাড়াও দেয়।
সাধারণত সুফি বা ধর্মীয় প্রচারকদের কবরকেন্দ্রিক মাজার গড়ে ওঠে। যেখানে অনেকে মনোকামনা পূরণের উদ্দেশ্যে মানত করে থাকেন। যদিও ইসলামিক রীতিতে মাজারব্যবস্থা কতটা ধর্মসম্মত, তা নিয়ে স্কলারদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোয় অনেক সময় মাজারকেন্দ্রিক ব্যবসা, প্রতারণা, মাদক ব্যবহার বা অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এভাবে হামলা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইসলামিক স্কলাররা বলছেন।
এদিকে, বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলো। মাজার ভাঙা নিয়ে রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার কথা বলেছেন। তিনি মাজার ভাঙার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এর একদিন পর কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহও মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে সরব হলেন।
শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দগরিসার এলাকায় সাধক আবদুল কাদির শাহ (রহ.)-এর ৫৮তম স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরস উপলক্ষে আয়োজিত 'সুফিবাদ ও আত্মদর্শন'- শীর্ষক আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে ফরহাদ মজহার বলেছেন, একটি গোষ্ঠী মনে করে, ধর্মের ব্যাপারে কথা বলার একমাত্র অধিকার তাদের এবং তাদের বাইরে আর কেউ কথা বলতে পারবে না। ফলে মাজার ভাঙা হয়েছে, বাউলদের ওপর অত্যাচার হয়েছে, অত্যাচার চলছে। অনেক বাউলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আবুল সরকার এখনো কারাগারে রয়েছেন।
ইসকনের চিন্ময়কে আটকে রাখারও তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ এখনো পর্যন্ত কারাগারে আছেন। এগুলো অন্যায়। এই অন্যায়গুলো থেকে আমাদের সমাজকে মুক্ত হতে হবে, রাষ্ট্রকে মুক্ত হতে হবে। এটি ছাড়া প্রীতি-ভালোবাসার সমাজ গড়ে তোলা যাবে না।
ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের একদিন পরে এ বিষয়ে কথা বললেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। মাজার ভাঙলেই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান হাসনাত। তিনি বলেছেন, মাজার, জলসা, খানকা- এসবে আক্রমণ করা যাবে না। এসবে আক্রমণ করলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেব।
সম্প্রতি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ বলছেন, আপনি যদি কোনো মাজারে আক্রমণ করেন, কোনো খানকা-জলসায় আক্রমণ করেন, আমি এটার আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেব। এই জায়গাগুলোতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
কারো বিশ্বাসের ওপর হস্তক্ষেপের অধিকার কেউ করতে পারবেন না বলেও অভিমত দিয়েছেন সংসদ সদস্য। তার ভাষ্য, খানকা-জলসায় হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। যার যার বিশ্বাস তার তার কাছে। আপনার কোনো অধিকার নেই কোনো মাজারে আক্রমণ করার।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে একাধিক উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিলেও এমন ঘটনা ঘটেই গেছে।

