আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুমায়ুন কবিরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেল জ্বালানি সহযোগিতা

আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়া। বিশেষ করে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৈঠকে আলোচনা হয় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিষয়।
বৈঠকে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী। বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের শোধনাগার ও এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলজেরিয়ান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের প্রশিক্ষণ দিতে চায়। এর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের পথ আরও সুগম হতে পারে।
বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফ জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
কৃষি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশের সারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জবাবে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সার খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তাঁর দেশ।
এ ছাড়া আলজেরিয়ার বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন আহমেদ আত্তাফ। ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্র খাতেও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চান তিনি।
বৈঠকে শিক্ষা, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পরামর্শ সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সভার পরবর্তী পর্ব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ঢাকায়।




