ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং, অডিটিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতিতে বিগত বছরগুলোয় চরম অস্থিরতা বিরাজ করেছে এবং ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং ও অডিটিং ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বুধবার ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) আয়োজিত ‘অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং’ সম্মেলনের ‘নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন: আসলেই কি গুরুত্বপূর্ণ’ সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সহযোগিতায় সামিটটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসাইন ভূঁইয়া।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত বছরগুলোয় একটা অস্থির সময় পার করেছে এবং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সবকিছুই মোটামুটি কাজ না করার পর্যায়ে চলে গেছে।
তিনি বলেছেন, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং, অডিটিং— এই ইকোসিস্টেম প্রায় ভেঙে গেছে, এটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। শুনেছি এফআরসি ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন ২০২৬। আমি জানি না গত ১১ বছরে এফআরসির ভূমিকা কী ছিল। এ ধরনের আর্থিক বিশৃঙ্খলা হয়েছে সব জায়গায়।
তিনি আরও বলেছেন, ক্যাপিটাল মার্কেট থেকে শুরু করে যেখানে যাবেন, সবখানেই একই অবস্থা। এই আর্থিক বিশৃঙ্খলার কারণে ব্যাংক থেকে এতগুলো টাকা বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে এসেছে শেয়ারবাজারে। প্রাইভেট খাতে রয়েছে ভয়াবহ মূলধন ঘাটতি।
বর্তমান সরকার স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ থাকবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সবাই যার যার অবস্থান থেকে পেশাদারভাবে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। আশা করি, আইসিএবি ও আইসিএমএবি সদস্যরা, সিএফওরা সেলফ রেগুলেট করবে। আমরা গুরুত্ব দিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেট, ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট ও এনবিআরে নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে অডিটরদের সহযোগিতা লাগবে।




