রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে বিশ্ববাসী কেন তাকিয়ে জানালেন সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন— ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববাসী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন ঘিরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’
আজ বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববাসীর এত আগ্রহ কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বললেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ঘটনা এ নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। একজন রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। ফলে এখন কে রাষ্ট্রপতি হবেন, তা নিয়ে সবার মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি যদি স্বাভাবিক মেয়াদ শেষে দায়িত্ব ছাড়তেন, তাহলে মানুষের মধ্যে এতটা আগ্রহ থাকত না।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালার আলোকে নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলছিলেন, ‘সংসদের অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।’
এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, গত ১১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে এবং আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম সাত দিনের চেয়ে বেশি সময় দেওয়া হয়েছে। ৬ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। ১৮ আগস্ট ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।
তিনি আরও জানালেন, এ নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমদ বীরবিক্রম প্রার্থী হয়েছেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, ‘প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় যাচাই করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার সময় যে রেজিস্টারে স্বাক্ষর করেছিলেন, সেটির সঙ্গে স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা হয়। সবকিছু ঠিক থাকায় তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়লে একটি বৈধ হলেই দ্বিতীয়টির প্রয়োজন থাকে না।’
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার।
ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করে সেদিনই ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানালেন সিএসই। তিনি বলেছেন, ‘কতটি ব্যালট আমরা ছাপিয়েছি, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি উদ্বৃত্ত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং ব্যবহৃত ব্যালটের মধ্যে কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন- সবকিছু বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাবেন, তিনি বিজয়ী হবেন এবং তার নাম ঘোষণা করা হবে। সেটিই হবে পুরো প্রক্রিয়ার সমাপ্তি।’








