Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
জামালের ‘সেলুন লাইব্রেরি’
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় জাতীয়

২৮৪ ট্যাব চুরি

বিবিএসে রক্ষকই ভক্ষক

  • দুটি তদন্তই প্রশ্নবিদ্ধ
  • মূল অভিযুক্তদের বাঁচাতে কৌশল
হামিদ-উজ-জামান
হামিদ-উজ-জামান
agamir somoy
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ২৩:৩৯
বিবিএসে রক্ষকই ভক্ষক

সংগৃহীত ছবি

‘সরকার কা মাল, দরিয়া মে ঢাল’। বহুল ব্যবহৃত এ প্রবচনটি মূলত সরকারি সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার, অপচয় বা দুর্নীতির মানসিকতা বোঝাতে উচ্চারিত হয়। সরকারি সম্পদের এমন নয়-ছয়ের একটি ঘটনার সন্ধান পাওয়া গেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (বিবিএস), যা আসলে শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেওয়ার মতোই।

রক্ষিত থাকা অবস্থায় চুরি হয়ে গেছে বিবিএসের ২৮৪টি ট্যাব। আবার পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতেও কমকৌশল করা হয়নি। দুই দফা তদন্ত হয়েছে। দ্বিতীয় তদন্তের পর কেটে গেছে ৮ মাস, আলোর মুখ দেখেনি প্রতিবেদন।

আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ট্যাব (ল্যাপটপের চেয়ে ছোট ও হালকা কম্পিউটার) চুরির এ ঘটনার কেন্দ্রস্থল কুড়িগ্রাম জেলা পরিসংখ্যান অফিস। এখান থেকে জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের ট্যাব উধাও করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব কেনে সরকার। এতে খরচ হয় ৪৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের মে মাসের শেষ নাগাদ ট্যাবগুলো কেনে বিবিএস।

এরপর ২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত চলে মূল শুমারির কাজ। শুমারি শেষে এ ট্যাবগুলো রাখা হয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন ও দেশের সব জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে। কুড়িগ্রাম জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে রাখা হয় ৬ হাজার ১৪৬টি ট্যাব। এর মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশের মতো কুড়িগ্রাম জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩ হাজার ৫০৮টি ট্যাব বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ২ হাজার ৬৩৮টি জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালকের দায়িত্বে তার অফিসে রক্ষিত থাকে। পরে সেই ট্যাব থেকে ২৮৪টি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে গায়েব হয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আগামীর সময়কে বললেন, ঘটনাটি কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এখানে টাকা হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু দুর্নীতিটা অনেক বড়। সরকারি ১ টাকার ক্ষতিও অনেক বড় ক্ষতি। হালকা করে নেওয়া যায় না। সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। কারণ, এটি সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-অনিয়মের অন্যতম দৃষ্টান্ত।

ট্যাব গায়েবের নেপথ্যে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আবুল বাসার মো. ওবায়দুল্লা ও জেলা অফিসের আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত চেইনম্যান মো. সোহাগ মিয়া এই ট্যাব গায়েবের নেপথ্য নায়ক। ট্যাবগুলো সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তৎকালীন উপপরিচালক মো. নাছির উদ্দীনের অবহেলায় এমন ঘটনা। কিন্তু ট্যাব চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর উপপরিচালক নাছির উদ্দিন যথাযথ আইনিব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আবুল বাসার নিজের ব্যাচমেট ও কাছের লোক হওয়ায় তাকে বাঁচাতে নেন পদক্ষেপ। চেইনম্যান সোহাগ মিয়া চুরির স্বীকারোক্তি দেওয়ার পরও উপপরিচালক তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উপজেলার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা নষ্ট ট্যাবগুলো ক্রয় করতে বলেন। কিন্তু এভাবে পর্যাপ্ত ট্যাব সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বাধ্য হয়েই উপপরিচালক ট্যাব হারিয়ে গেছে বলে বিভাগীয় কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করেন।

ট্যাব গায়েবের বিষয়ে জানতে চাইলে নাছির উদ্দিন বললেন, ‘আমি ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। এখানে আমার কোনো অবহেলা বা অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। আমি কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করিনি। এ নিয়ে কয়েকবার তদন্ত হয়েছে। এখনো চলছে। তাই বেশি কিছু বলতে পারছি না।’

জানা গেছে, বিবিএসের সাবেক মহাপরিচালক রংপুর বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামকে ট্যাব চুরির ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পেয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১০ জুলাই সরেজমিন তদন্ত করেন। ওই তদন্তে শুধু চেইনম্যান মো. সোহাগ মিয়াকে অভিযুক্ত করে শাস্তির সুপারিশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছিলেন। ফলে তাদের এ ঘটনায় জড়াননি তিনি।

এই অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বললেন, ‘তদন্তে কোনো দুর্নীতি করিনি। আমি যা পেয়েছি তা-ই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। কোনো টাকা-পয়সা কিংবা অন্য কোনোভাবে ম্যানেজ করার বিষয়টি সঠিক নয়।’

জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের তদন্ত প্রতিবেদনের পর চেইনম্যান সোহাগ মিয়াকে প্রথমে কুড়িগ্রাম থেকে বদলি, এরপর চাকরিচ্যুত করা হয়। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে সোহাগ মিয়া পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবের কাছে তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সদর উপজেলার উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আবুল বাসার মো. ওবায়দুল্লার সরাসরি প্ররোচনা, নির্দেশনা ও সমন্বয়ে ট্যাব চুরি করে তিনি বিক্রি করেন। বিক্রি করা টাকার অংশ বিভিন্ন সময় নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিনি আবুল বাসারকে দেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদিও সংযুক্ত করেন সোহাগ।

সোহাগ তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ‘এ ঘটনায় আবুল বাসার মো. ওবায়দুল্লা মূল উদ্যোক্তা এবং আমি তার নির্দেশনায় কাজ করা একজন অধীনস্থ কর্মচারী। আবুল বাসার যোগদানের পর থেকে একটানা ১৫ বছর একই কর্মস্থলে আছেন (বর্তমানে পীরগঞ্জ, রংপুরে কমরত)। দীর্ঘদিন এক জায়গায় অবস্থান করায় তিনি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং ট্যাব চুরির মতো কাজ করতেও দ্বিধা করেননি।’ সোহাগ আরও লেখেন, ‘উপপরিচালক নাছির উদ্দিনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় আবুল বাসার এ ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পান।’

সোহাগ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘ঘটনাটি ভুলে যেতে চাই। যা হওয়ার হয়ে গেছে। চাকরি হারালেও এর চেয়ে বড় কোনো ঝামেলায় পড়তে চাইনা। তদন্ত করে যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার নিক। আমি আর বেশি কিছু বলতে চাই না। পরে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

প্রধান অভিযুক্ত আবুল বাসার মো. ওয়ায়দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন বললেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছিল, সেটিই ঠিক। আমি কোনো টাকার ভাগ নেইনি। আপনি অফিসে এলে কথা বলতে সুবিধা হতো।’

পুনঃতদন্ত, আবারও ম্যানেজের অভিযোগ

অভিযুক্ত চেইনম্যান সোহাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিবিএসের মহাপরিচালকের নির্দেশে প্রধান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. সাইদুল ইসলাম ওই বছরের ২৭ নভেম্বর আবার ট্যাব গায়েবের ঘটনা সরেজমিন তদন্ত করেন, যা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। সাইদুল ইসলামের এই তদন্ত নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কেউ কেউ বলেছেন, সাইদুল ইসলামকেও জড়িত ব্যক্তিরা ম্যানেজ করেছেন।

এ বিষয়ে সাইদুল ইমলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমি তদন্ত শেষ করেছি। শুধু লেখার কাজ বাকি আছে। ব্যস্ত ছিলাম, তাই দেরি হচ্ছে। শিগগির প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’ তদন্তে কী পেয়েছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘এটা প্রশাসনিক বিষয়, তাই এখন কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। আমি কোনোভাবে ঘটনা আড়ালের চেষ্টা করছি না।’

জানা গেছে, ট্যাব চুরির এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবুল বাসার মো. ওবায়দুল্লাকে প্রাইজ পোস্টিং হিসেবে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রংপুরের পীরগঞ্জে এবং যার দায়িত্বে অবহেলার কারণে এমন ঘটনা, সেই উপপরিচালক নাছির উদ্দিনকে গত ২০ জানুয়ারি নাটোর জেলায় বদলি করা হয়েছে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন বলেন, ‘আমার সময় এ ঘটনা ঘটেনি। আমি দায়িত্ব ছেড়ে আসার পর ঘটতে পারে। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।’
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার আগামীর সময়কে বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি সচিব হিসেবে। এখনো বিষয়টি আমার নলেজে আসেনি। তবে আপনার মাধ্যমে ঘটনা জানলাম, আমি খোঁজ নিচ্ছি। প্রকৃত দোষীদের আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হবে।’


সরকার
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    আসছে ককরোচ, কাঁপছে দিল্লি

    আসছে ককরোচ, কাঁপছে দিল্লি

    ০৬ জুন ২০২৬, ০০:৩৬

    advertiseadvertise