মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট : আইনের ব্যাপারে সব বাইকার জানেন না

নম্বর প্লেট বসানোর নিয়মে সুফল আসলেও জন প্রচার না করলে অনেকেই বিপাকে পড়তে পারেন- আগামীর সময়
মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়ালি তৈরি নিবন্ধন নম্বরসংবলিত প্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আগে জনসচেতনতা বাড়াতে এখনো তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি সরকারের পক্ষে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, বেপরোয়া চালকদের শনাক্ত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর এ উদ্যোগ। বিষয়টিকে কেউ কেউ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকের কাছে এই আইনের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে আইনটি কার্যকর করা হলে অনেকেই না জেনে বিপদে পড়তে পারেন।
নতুন নিয়ম সম্পর্কে অনেক চালক এখনো অবগত নন। কেউ কেউ নিয়মটি কার্যকরের আগে আরও সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাইড শেয়ারিং চালক আসাদ হোসেন বলেন, ‘আমি তো এমন আইনের ব্যাপারে জানিই না। আপনার কাছ থেকেই জানলাম। তবে এ আইন করলে ভালোই হবে। তখন অনেক বেপরোয়া বাইকচালক ঠিকঠাকভাবে চালাবেন। পুলিশের মামলার ভয়েই তখন তারা নিয়ম মেনে চালাবেন।’
মূলত আজ শুক্রবার সকালে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ এ নির্দেশনার কথা জানিয়েছে। বর্তমানে মোটরসাইকেলের পেছনে ডিজিটাল নম্বর প্লেট থাকলেও নতুন নিয়ম অনুযায়ী সামনেও ম্যানুয়ালি তৈরি নিবন্ধন নম্বরসংবলিত প্লেট রাখতে হবে।
সচেতন বাইকারদের মতে, মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট থাকলে সড়কে আইন অমান্যকারী চালকদের শনাক্ত করা সহজ হবে। বিশেষ করে হেলমেট ছাড়া চলাচল, বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানো এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে এটি সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও নতুন নিয়মটি ভূমিকা রাখতে পারে।
আরেক চালক রুবেল জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ আগেই তিনি নতুন নিয়মের বিষয়ে জানতে পেরেছেন। তার মতে, আইনটি যথাযথভাবে কার্যকর করা হলে মোটরসাইকেলচালকদের পাশাপাশি সড়কে চলাচলকারী অন্যদের জন্যও তা উপকারী হবে।
রুবেল আরও বলেন, ‘এখন তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা দেওয়া হয়। যখন বাইকের সামনেও নম্বর থাকবে, তখন মামলা হওয়ার ভয়ে বাইকাররা আরও সাবধানে বাইক চালাবেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে।’
তবে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে কিছুটা আপত্তি রয়েছে চালকদের। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থী ইফতেখার মনে করেন, সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার আগে চালকদের আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল।
ইফতেখার বলেন, ‘আইন করেছে, ঠিক আছে। কিন্তু আরও সময় দেওয়া উচিত ছিল। আমাদের এই নম্বর প্লেট বানাতে বিভিন্ন দোকানে ঘুরতে হবে। দোকানদারকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হবে। যারা নম্বর প্লেট তৈরি করেন, তাদেরও বিষয়টি বুঝতে কিছুদিন সময় লাগবে। তাই চালু করার সময়টা একটু বাড়িয়ে দিলে ভালো হতো।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন এবং বিচার বিভাগের প্রভাষক মো. রবিউল ইসলাম আইনের প্রচারের বিষয়ে বলেছেন, ‘আইন তৈরি করার পর গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। আর যদি বিআরটিএ চায়, তাহলে সরকারি টেলিভিশনে প্রচার করতে পারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে পারে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবচেয়ে সহজে এবং ভালো প্রচার করা যায়। বিআরটিএ চাইলে এ পদ্ধতিতে যেতে পারে।’
বাইক চালকদের একাংশ নতুন নিয়ম সম্পর্কে এখনো না জানলেও অনেকে মনে করছেন, যথাযথ নজরদারি ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এটি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হবে। তবে নিয়মটি বাস্তবায়নের জন্য চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং নম্বর প্লেট তৈরির পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।




