আগামীর সময়

সংরক্ষিত নারী আসন

এক পরিবার থেকে দুই এমপি করবে না জামায়াত-এনসিপি

এক পরিবার থেকে দুই এমপি করবে না জামায়াত-এনসিপি

সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনার কেন্দ্রে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ইতিমধ্যেই সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঈদের আগেই তফসিল ঘোষণা হবে বলে জানা গেছে ইসি সূত্রে। অবশ্য সংরক্ষিত নারী আসনে সাধারণত নিজেদের প্রাপ্য আসনগুলোয় একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয় দল বা জোটগুলো। ফলে এখানে ভোটের প্রয়োজন হয় না। এই মনোনয়ন কেন্দ্র করে দলগুলোর ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা ও লবিং।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন প্রজ্ঞাপন জারি করে মনোনয়ন, বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য এখনও হাতে সময় আছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। ‘আমরা বেশি সময় নেব না। ঈদের আগেই তফসিল ঘোষণা করা হবে’, বলছিলেন তিনি।

জাতীয় সংসদের প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। কোনো কারণে বণ্টন করা আসনসংখ্যা মোট আসনের চেয়ে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।

নির্বাচন আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে জয়ী বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫ জন নারী সংসদ সদস্য পাবে। অপরদিকে ৬৮টি আসনে জয়ী জামায়াতে ইসলামী পাবে ১১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা ১১টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা একটি আসন পাবে (যদি জোট করে)। জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে একটি আসন। অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। তবে জোট করলে পাবে একটি আসন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির আরও একটি আসন বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬টি। আবার জোটগতভাবে যদি নির্বাচন করে তাহলে বিএনপি ৩৫টি আসনই পাবে। তবে জামায়াতের দুটি আসন বেড়ে ১৩টি হবে।

সংরক্ষিত ৫০ আসনে কাদের প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রার্থীরাও দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। এবারের সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আসনগুলোয় কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়েও দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্ভাব্য তালিকায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার স্ত্রী ও মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেত্রীদের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে গুঞ্জন আছে। তবে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রে জানা গেছে, এক পরিবারে কেউ সংসদ সদস্য থাকলে সংরক্ষিত নারী আসনে ওই পরিবার থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের আমির শফিকুর রহমান নিজেও এতে সম্মতি দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানান, এক পরিবার থেকে দুইজন সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হবে না এ সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। যেসব গুঞ্জন ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি আইনজীবী সাবিকুন্নাহার, সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম, মহিলা বিভাগের সদস্য ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজের নাম আলোচনায় আছে।

সংরক্ষিত আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মন্তব্য করেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। যদি আসন সংখ্যা ১০০ হয়, তবে জামায়াত ২৪টি আসন পেতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনের পরিকল্পনাটিও আরও বিস্তৃত হবে। বর্তমান কাঠামো বজায় থাকলে প্রাপ্ত ১১-১২টি আসনের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

‘আমরা মনোনয়ন ঠিক করছি। সংসদে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেন, এমন উপযুক্ত নারীদের মনোনয়ন দেব’, আগামীর সময়কে ব্যাখ্যা করছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

এদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে কাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। দলের সভায় এ নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী দলটি একটি মাত্র আসনে মনোনয়ন দিতে পারবে। তবে জোটগতভাবে ২-৩টিও দেওয়ার সুযোগ আছে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে এনসিপিও জামায়াতেরই নীতি অনুসরণ করবে।

এনসিপিতে সংরক্ষিত নারী আসনের আলোচনায় আছেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, মনিরা শারমিন, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নুর এবং যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত তাবাসসুম। এরমধ্যে মনিরা শারমিন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন। সামান্তা শারমিন জোটের বিরোধিতায় নির্বাচনকালীন সময়ে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

দলটির নেতারা জানাচ্ছেন, যোগ্য, দলের প্রতি কমিটেড এবং সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে যারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং জোটের বিরোধিতা করেছে তাদের না রাখার বিষয়ে দলের ভেতরে আলোচনা আছে।

‘যারা নির্বাচন করেনি এবং দলের বিভিন্ন জায়গায় এবং নির্বাচনকালীন সময়ে ভূমিকা রেখেছে তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। যারা নির্বাচন করেছে তারা ইতিমধ্যেই সুবিধাপ্রাপ্ত। দলের জন্য নতুন মুখ আনা উচিত। পাশাপাশি নারীদের কাউকে জামায়াতের পক্ষ থেকেও মনোনীত করার জন্য নেগোসিয়েশন করা উচিত’, এমনই ভাষ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন শিশির স্পষ্ট করেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে যাবে সেটি দলের আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব দলের বৈধ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে একই পরিবার থেকে দুজনের মনোনয়নের কোনো সুযোগ নেই।’

অপরদিকে যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহাবুব আলম জানান, দলের ভেতরে অনেকের নাম নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন কে হবে সংরক্ষিত আসনের এমপি।

    শেয়ার করুন: