জামায়াতকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স স্থগিত নিয়ে দলীয়করণ কেন

সংগৃহীত ছবি
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘অক্সিজেনের অভাব ও অবহেলার কারণে নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে। তাই হাসপাতালগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।’
আজ রবিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, ‘অনেকে বলেছেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালে কম খরচে ডায়ালাইসিস হয়। সেটা সত্য। কিন্তু মাথাব্যথা হলে যেমন মাথা কেটে ফেলা যায় না, তেমনি যারা অবহেলা করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
‘কোরবানির ঈদের আগের দিন মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অক্সিজেনের সংকট ও চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’—যোগ করেন তিনি।
অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ থাকা, বিকল্প বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনাইটেড হাসপাতাল ও জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে আদ্-দ্বীনের ঘটনার তুলনা টেনে বিরোধী দলের বক্তব্যেরও জবাব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটের ঘটনা ছিল দুর্ঘটনা। কিন্তু আদ্-দ্বীনের ঘটনায় অবহেলা ছিল। সেখানে শিশুরা বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, অথচ ওয়ার্ডে অক্সিজেন ছিল না। এসি বন্ধ ছিল, জানালা ছিল না, একজন চিকিৎসকও সময়মতো আসেননি।’
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে যাননি। বললেন, ‘পরের দিন আমি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও বলেছেন, অবহেলা ও অক্সিজেনের অভাবেই শিশুগুলোর মৃত্যু হয়েছে।’
সাখাওয়াত হোসেন জানালেন, ‘সরকার হাসপাতালটি বন্ধ করেনি, কেবল লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এরপরও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘আমরা লাইসেন্স স্থগিত করেছি। প্রতিটি বিষয়কে কেন দলীয় আদর্শের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন? দেশের স্বার্থের প্রশ্নে দলীয়করণ করা উচিত নয়।’
হাসপাতালের ভেতরে অনুমোদনবিহীন বেকারি কারখানা পরিচালনার অভিযোগ তুলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘হাসপাতালের ছয়তলা ভবনের ভেতরে বেকারি চালানো হচ্ছিল। সেখানে প্লাস্টিকের বর্জ্য জমে ছিল। আগুন লাগলে রোগী, স্বজন বা কর্মীদের কেউই নিরাপদে বের হতে পারতেন না।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সব হাসপাতালকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সরকার কাজ করছে। সবার আগে দেশের মানুষ এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।’
বাজেট আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বললেন, ‘এবারের বাজেটে মানুষের স্বাস্থ্য ব্যয় কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে রোগীর নিজস্ব খরচ (আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার) কমানো, ক্যান্সার চিকিৎসা, কিডনি ডায়ালাইসিসসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’






