সংসদে সমাজকল্যাণমন্ত্রী
মা-বাবার ভরণপোষণ আইন সংশোধন হচ্ছে

সংগৃহীত ছবি
মা-বাবার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ সংশোধন করে শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
আজ রবিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরপর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে মা-বাবার ভরণপোষণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত আইনে শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।’
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বললেন, ‘অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত দুস্থ, অসচ্ছল ও যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত এবং অযোগ্য সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে।’
‘এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ভাতার তালিকা পুনঃযাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’—যোগ করেন তিনি।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বললেন, ‘মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬১ লাখ প্রবীণ মাসে ৬৫০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৭৯১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।’
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবীণ ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬২ লাখ এবং মাসিক ভাতা ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানালেন, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীকে মাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জন্য ২ হাজার ৫৩৫ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ২৯ লাখ নারী মাসে ৬৫০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।
এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে ৩৮ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মাসে ১ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে তারা মাসে ৯০০ টাকা করে পাচ্ছেন। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, দেশের ৪৪ জেলার ৫৫ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশন এলাকায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় তিন ধাপে ৬৯ হাজার ৩৮৭টি নারীপ্রধান পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে।






