আগামীর সময়

সংসদে গাজী নজরুল

‘মাননীয় স্পিকার আপনি জানেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা’

‘মাননীয় স্পিকার আপনি জানেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা’

মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও সংসদ সদস্য গাজী নজরুল

‘মাননীয় স্পিকার আপনি জানেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ আমরা একসঙ্গে সংসদে ছিলাম। আবার ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও আপনার সঙ্গে সংসদে ছিলাম। এবার আমার তৃতীয়বার সংসদে আসা।’

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এভাবেই বলছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও তালিকা থেকে আওয়ামী লীগ সরকার নাম বাদ দিয়েছে বলে সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নে অভিযোগ করনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

‘২০০৬ সালের পর যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তখন আমার নাম মুক্তিযোদ্ধার খাতা থেকে কেটে দেয়। তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছি; বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যে গৌরব, সেটা থেকেও আমি বঞ্চিত। এলাকার সবাই আমাকে মুক্তিযোদ্ধা বলে জানে। আপনিও জানেন মাননীয় স্পিকার’—বলছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের তথ্য তুলে ধরেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। ‘আমার যে হারানো গৌরব; আমি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি মেজর জলিল সাহেবের নেতৃত্বে নবম সেক্টরে; এ হারানো গৌরবটা আমি ফিরে পাবো কিনা; সেটা জানতে চাই। আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব গচ্ছিত আছে, সবই দেখাবো ইনশাআল্লাহ। আমার মতো আরও অনেকে নিগৃহীত হয়েছেন, এখানেও আমাদের অনেক ভাই বললেন। সেটা আমাদের আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সেটা জানতে চাই।’

গাজী নজরুলের অভিযোগের জবাব দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ‘এ প্রশ্নটিও আগের মতোই। তার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার কাছে কাগজপত্র যা আছে, সেটা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’

‘আমরা জানি অতীতে যারাই বিরোধীদলের রাজনীতি করতাম, তাদেরই হয়রানি করা হতো; সুনাম নষ্ট করা হতো। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করতে চাই যে— তার কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে অবশ্যই তিনি তা ফিরে পাবেন’— ভুক্তভোগী এমপিকে আশ্বস্ত করে বলছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।

    শেয়ার করুন: