আগামীর সময়

‛মতামত ছাড়াই পোশাকে বদল’, আগেরটি ফেরত চায় পুলিশ

‛মতামত ছাড়াই পোশাকে বদল’, আগেরটি ফেরত চায় পুলিশ

পুলিশের নতুন (বামে) ও পুরোনো ইউনিফর্ম

জুলাই অভ্যুত্থান ও সরকার পতনে পুলিশ বাহিনীর ওপর নেমে আসে বিভীষিকা। হামলা-হত্যা-থানায় ভাঙ্চুর-আগুনের ঘটনায় বিপর্যস্ত বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ফেরানোর চেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে বদলে ফেলা হয় তাদের পোশাক।

এখন নতুন সরকারের কাছে নালিশ জানিয়ে পুরোনো পোশাক ফেরত চাইল বাহিনীটি। তাদের অভিযোগ, বাস্তব বিষয়গুলো আমলে না নিয়ে পুলিশের মতামত ছাড়াই দেয়া হয় নতুন ইউনিফর্ম।

পুরোনো পোশাকের দাবি নিয়ে সোমবার রাতে বিবৃতি দেয় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয় গেল বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে। আগের নীল ও সবুজ রঙের পরিবর্তে এখন নতুন ‘আয়রন গ্রে’ রঙের পোশাক পরছেন রেঞ্জ ও মহানগর পুলিশ সদস্যরা।

এ পোশাক নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‛বাহিনীর দীর্ঘদিনের যে খাকি পোশাক ছিল তা ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই বাছাই শেষে পরিবর্তন করা হয়। ওই সময় পুলিশের চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের গায়ের রং, আবহাওয়া, রাত্রি ও দিনের ডিউটির বিষয়গুলোর সঙ্গে অন্য বাহিনীর পোশাক বিবেচনায় নতুন পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছিল...

‛...অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেন, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, আবহাওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই কোনরূপ জনমত যাচাই-বাছাই ছাড়াই করা হয়। অন্য যে সকল সংস্থা ইউনিফর্ম পরে থাকেন তাদের সাথে হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে এমন পোশাক নির্বাচন করা হয়।’

‛পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন’- মাঠ পর্যায় থেকে সদস্যদের এমন মতামতও আসে বলে লেখা আছে বিবৃতিতে।

বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য ‛তড়িঘড়ি করে নেয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন’ উল্লেখ করে আগের পোশাকে ফেরত চায় পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। পুরোনো পোশাকটি বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের প্রতীক বলেও উল্লেখ করা হয়।

দাবি করা হয়, পুরোনো পোশাকেই পুলিশ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে চমৎকার ভূমিকা রেখেছে।

পোশাক নয়, বরং পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা পরিবর্তন, মনোবল ও পেশাদারত্বের উন্নয়ন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানায় পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠনটি।


পোশাকের পেছনে খরচ না বাড়িয়ে বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট বাড়ানোই যৌক্তিক বলে মত সংগঠনটির।

    শেয়ার করুন: