সংসদ মাতানো স্বতন্ত্র এমপি থেকে চিফ হুইপ, নুরুল ইসলাম মনির নতুন যাত্রা

চিফ হুইপ ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি
একসময় সংসদ উত্তাল করা সেই চিরচেনা কণ্ঠস্বর এখন সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্বে। বরগুনা-২ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত জনপ্রিয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনিকে ইতিমধ্যেই জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ এবং ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে সংসদ মাতিয়ে রাখা এই নেতার ত্রয়োদশ সংসদের নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তিতে নির্বাচনী এলাকা বরগুনাসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চিফ হুইপের প্রধান কাজ হলো, সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিল বা প্রস্তাবে দলীয় অবস্থান সমন্বয় করা। নুরুল ইসলাম মনি সংসদীয় রীতিনীতি এবং কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে অত্যন্ত অভিজ্ঞ। একজন স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে এবং পরে দলীয় হিসেবে সংসদ মাতিয়ে রাখার যে দক্ষতা তিনি দেখিয়েছেন, তা চিফ হুইপের দায়িত্ব পালনে তাকে বিশেষ সুবিধা দেবে। হুইপ হিসেবে সরকারি বা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমন্বয় করা এবং সংসদের প্রাণবন্ত পরিবেশ বজায় রাখাই হবে তার মূল চ্যালেঞ্জ।
তৃণমূল থেকে সংসদীয় রাজনীতির শিখরে
নুরুল ইসলাম মনির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার রূপকথার চেয়ে কম কিছু নয়। বিশেষ করে ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে তার জয়লাভ ছিল রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঘটনা। কোনো দলীয় টিকিট ছাড়াই সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন তৃণমূলের সঙ্গে তার শিকড়ের টান।
সংসদে স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে তার জোরালো বক্তব্য, যুক্তি এবং উপস্থাপনা ভোলার নয়। সরকারি দল ও বিরোধী দল— উভয় পক্ষকেই গঠনমূলক সমালোচনায় বিদ্ধ করতে তার জুড়ি ছিল না। ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তবে জয়ী হতে পারেননি। এরই মধ্যে দলের চরম সংকটময় মুহূর্তে টিভি টক শো ও লেখালেখির মাধ্যমে দলের পক্ষে সরব ছিলেন এই সিনিয়র নেতা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। বরগুনা-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক নুরুল ইসলাম মনিকে সরকারদলীয় নতুন চিফ হুইপ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আগামীকাল ১২ মার্চ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সংবিধান অনুসারে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। একই দিন নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হবেন।
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, নুরুল ইসলাম মনি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। বরগুনা সদর, বামনা ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা সমাবেশের আয়োজন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছার বন্যা বইছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন, তার (নুরুল ইসলাম মনি) এ দায়িত্ব একদিকে যেমন বরগুনা-২ আসনের মর্যাদা বাড়াবে, তেমনি বরগুনার এই নেতার হাত ধরে সংসদীয় গণতন্ত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
এদিকে চিফ হুইপের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় নুরুল ইসলাম মনি আগামীর সময়কে জানান, তিনি সংসদের মর্যাদা রক্ষা এবং সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বদ্ধপরিকর।
স্বতন্ত্র এমপি থেকে সরকারদলীয় চিফ হুইপের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এ দেশে স্বতন্ত্র এমপি হয়ে জনগণের জন্য কিছু করা অনেক চ্যালেঞ্জের। সেজন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। দলের কাছে কোনো চাওয়া না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান আমাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্বে নির্বাচিত করেছেন। আমি সেই দায়িত্বকে ইবাদত হিসেবে পালনের চেষ্টা করব।’

