এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অভিশাপ থেকে দীর্ঘ দেড় দশকে রাষ্ট্রের অন্যসব প্রতিষ্ঠানের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও (এনবিআর) মুক্ত থাকতে পারেনি— বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মতে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এনবিআর প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিল। ফলে সংস্থাটির ওপর থেকে উঠে গিয়েছিল মানুষের আস্থা।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলছিলেন তারেক রহমান। তার ভাষ্য, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বললেন, এই অবস্থায় এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের সফলতা।
সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও এনবিআর আয়োজিত সম্মেলনে তারেক রহমান বলছিলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রত্যাশা করে। বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান।
দক্ষ এবং টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব নিতে রাজস্ব কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বানও জানালেন তিনি। বললেন, তার সরকার এনবিআর তথা গোটা রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনীতিতে যেখানে বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবর্তিত হচ্ছে ব্যবসার ধরন, সেখানে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বললেন, ‘বর্তমানে দেশে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও এখনো সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো আনুষ্ঠানিক। নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। করদাতা ও রাজস্ব প্রশাসনের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’
তার মতে, আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় নয়; বরং বেশিসংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করা। একজন করদাতা যিনি নিম্ন কর আদায় করছেন রাষ্ট্র যেমন তাকে সম্মানিত করবে, একইভাবে যিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কর দিচ্ছেন না, তাকেও কর দিতে যথাযথভাবে আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন। আর তাই কর ব্যবস্থাপনা কিংবা কর আদায়।
সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: একই দিন দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের চা বাগান শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষার লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের সিএসআর তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দেন তিনি, নেন তাদের খোঁজখবরও।
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘সমাজের সবাই একটু একটু করে এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’ মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বললেন, যারা এ জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিতে চায়, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে।






