ভিডিও কলে গাজীপুরে ফল মেলার উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
ভিডিও কলে গাজীপুরে ফল মেলার উদ্বোধন করলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
আজ শুক্রবার গাজীপুর সদর উপজেলা চত্বরে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গাজীপুরের যৌথ আয়োজনে ‘ফল মেলা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গাজীপুরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান; সদর, গাজীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঈন খান এলিস; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গাজীপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক আবদুল মতিন বিশ্বাস।
এতে বলা হয়, এবারের মেলায় বৈচিত্র্যময় দেশীয় ফলের সমাহার ঘটেছে। এতে মোট ৩৪ প্রজাতির ফল প্রদর্শন করা হয়। মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল গাজীপুরের একটি ঐতিহ্যবাহী ও ৩৫ কেজি ওজনের বিশাল কাঁঠাল, যা ভিডিও কনফারেন্সে মন্ত্রীকে দেখানো হয়।
এ সময় ডিসি জানান, কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জেলায় কাঁঠালের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাজার রয়েছে। কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করে সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারলে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি করা সম্ভব।
গাজীপুর জেলায় এ বছর মোট ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে এবং মোট উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টন।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পরিবেশের উন্নয়ন ও ফলদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কৃষক পর্যায়ে এদিন বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। মেলার উদ্বোধনী দিনে মোট ৬০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে এ প্রণোদনা বিতরণ করা হয়।
রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় অনুষ্ঠানে কৃষকদের মধ্যে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ভার্মি কম্পোস্ট (জৈব সার) বিতরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আওতায় প্রত্যেক কৃষককে ৫টি করে উন্নত জাতের ফলদ গাছের কলম, ৫টি করে বাঁশের খুঁটি এবং ৪০ কেজি করে পরিবেশবান্ধব ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, বৈচিত্র্যময় এ ফল মেলা এবং সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচি গাজীপুরের ফল চাষ ও সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।




