ফ্যামিলি কার্ডে যাচাই হবে জীবনমান: অর্থমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
মানুষের জীবনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যকর ভূমিকা মূল্যায়ন করবে সরকার। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রতি বছর রাজস্বের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হবে। তাই এই অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের জীবনমানের উন্নতিতে কতটা ভূমিকা রাখছে, তা জানার প্রয়োজন— যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে উপকারভোগীরা কতটা এগোচ্ছে, সেটি বের করার পাশাপাশি কেউ যদি পিছিয়ে যায়, তবে কেন পিছিয়ে গেল, তাও বিশ্লেষণ করা হবে। তাহলে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রী মনে করেন, এ কর্মসূচির উপকারভোগী বাছাইয়ে দলীয় প্রভাব এড়াতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। প্রকৃত দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ যেন এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, উপকারভোগী নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যুক্ত থাকবে। এতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ বাছাই নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সেখানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কেউ যদি অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী হয়ে তথ্য গোপন করে এ কার্ড নেওয়ার চেষ্টা করে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যভাণ্ডারে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন (সংশোধন) নীতিমালা-২০২৬ চূড়ান্তকরণ এবং ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের তালিকা চার বছর অন্তর পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। যাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে, তারা তালিকা থেকে বাদ পড়বে এবং নতুন দরিদ্র পরিবারগুলো এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
বড় বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে প্রথমে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এরপরই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তার ভাষায়, ‘বাজেটে খুব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে—ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতি, আর স্থিতিশীল অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতি। একবার স্থিতিশীলতা ফিরে এলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।




