স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আ. লীগের অপতৎপরতা লক্ষ্য করায় ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ফাইল ছবি
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা লক্ষ্য করায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। কিন্তু শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে এবং আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্টে দেখেছি তারা মিছিল-মিটিং করার মতো কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তাতে করে আমাদের মনে হয়েছে, তারা হয়তো একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এ বিবেচনায় আমরা আমাদের সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি, যোগ করেন তিনি।
আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর জেলায় সেনা মোতায়েন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য কর্মসূচি, সমাবেশ বা শোডাউনের চেষ্টা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। ৩০ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।





