রাজারবাগের গণহত্যাই স্বাধীনতার ঘোষণাকে ত্বরান্বিত করেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলাই বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে বাধ্য করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, এই হামলা না হলে স্বাধীনতার ঘোষণা হয়তো আরও কয়েকদিন পিছিয়ে যেতে পারত। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এ সময় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন রাজারবাগে। এই রাজারবাগের পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি বাহিনী প্রথম গণহত্যা চালায়। এখান থেকেই পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যাযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনালগ্নের ভিত্তি।
স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণহত্যার খবর পেয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনা করেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে সংশোধিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এটাই প্রকৃত ইতিহাস।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের আত্মত্যাগই স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি সব শহীদ, মুক্তিযোদ্ধা ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি জানান, কয়েক বছর পর আবারও স্বাধীনতা দিবসের মার্চপাস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি জাতির জন্য আনন্দের বিষয়। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শহীদদের স্বপ্ন ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকবে।

