চিফ প্রসিকিউটর
ট্রাইব্যুনালে বেনজীরের বিরুদ্ধে ১০ মামলায় তদন্ত চলছে

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, সংগৃহীত ছবি
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১০টির মতো মামলা তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আজ সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছিলেন তিনি। বলছিলেন, ‘তিনি (বেনজির) শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড নয়, তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০টির মতো মামলার তদন্ত চলছে এবং প্রত্যেকটির সঙ্গে তার সরাসরি কানেকশন আছে।’
মো. আমিনুল ইসলামের ভাষ্য, ‘আওয়ামী লীগ শাসনামলে হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই যেটা বেনজির করেননি। শেষ দিকে তাদেরই কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তার এ কুকীর্তি প্রকাশ করেন।’
এ সময় চিফ প্রসিকিউটর একটি পত্রিকার প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন। বললেন, ‘প্রতিবেদনের পর সবাই প্রথমবারের মতো জানতে পারে বেনজির কত সম্পদের মালিক! কত ফ্ল্যাট, কত জায়গা, কত জমি আছে তার স্ত্রীর নামে, তার সন্তানদের নামে। তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া যায় দেশে-বিদেশে।’
তিনি যোগ করেন, ‘বেনজির শাপলা চত্বরের মামলায় অন্যতম কুশীলব ছিলেন, ছিলেন আসামিও। কক্সবাজারের একরাম কমিশনার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল তার।’
পুলিশ কমিশনার হিসেবে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বললেন, র্যাবের প্রধান হিসেবে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বেনজির। তিনি যখন পুলিশের প্রধান ছিলেন, আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, অসংখ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে প্রত্যেকটিতে তার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল।
চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, আমাদের এখানে তার অনেকগুলো মামলা তদন্তাধীন। তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনলে এই ট্রাইব্যুনালেও আনা হবে। যেগুলো তদন্তাধীন সেগুলোতে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আগামী এক মাসের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বেনজীরকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের দেওয়া সব প্রক্রিয়া শেষ হতে এক মাস সময় লাগবে। আর এসব কাজ সম্পন্ন হলেই দেশটির সরকার তাকে ফেরত দেবে বলে আমরা আশা করছি।




