চরমপন্থিরা চব্বিশের পর আগের অবস্থায় ফিরছে: র্যাব

সংগৃহীত ছবি
আগের আমলে আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিরা চব্বিশের সরকার পতনের পর ফের সশস্ত্র অবস্থায় ফিরছে। তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে এসব তথ্য।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মঙ্গলবার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন র্যাব-১২ অধিনায়ক আতিকুর রহমান মিয়া। রাজধানী ও সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে ডাকা হয় এই সংবাদ সম্মেলন।
রাকিব রানার বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় হত্যা, প্রতারণাসহ তিনটি এবং আলমগীরের বিরুদ্ধে একই থানায় হত্যাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।
‘সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিব রানা (৫৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে চারটি রাইফেল, পাঁচটি একনালা বন্দুক, দুটি শর্টগান, একটি পিস্তলসহ ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮৯৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়... তার তথ্যে পরে রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেকে অভিযান চালিয়ে আলমগীর ওরফে শ্যুটার আলমগীরকে একটি প্রাইভেট কারসহ গ্রেপ্তার করা হয়’- জানালেন বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
‘এরা চট্টগ্রাম থেকে এসব অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকার আদাবরে নিয়ে রাখে। পরে সুযোগমত পাবনায় চরমপন্থিদের কাছে পাঠায়’- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া এ তথ্য জানান র্যাব-১২ অধিনায়ক আতিকুর।
র্যাবের উইং কমান্ডার দিলেন আরও তথ্য।
‘আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি পাবনা- কুষ্টিয়া... এই চরাঞ্চল দখল নিয়ে বালুমহলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। এসব অস্ত্র এই অঞ্চলের বালু মহলে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযান নিয়েও কথা বলে র্যাব। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান তৈরির পাইপ, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ৬১টি কার্তুজ, ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে জানায় বাহিনীটি।
এ সময় চরমপন্থি গ্রুপগুলোর সক্রিয় হওয়ার বিষয় তুলে ধরেন ছলিমপুরে যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-১২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া।
‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সর্বহারা ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতা ছিল। ২০২৩ সালে র্যাব-১২ এর উদ্যোগে প্রায় ৩১৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল এবং তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে... ’
‘... তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছু আত্মসমর্পণকারী সদস্য আবারও পুরোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে মনিটর করতে থাকি এবং যার ফলশ্রুতিতে আজকে আমাদের এই সফলতা এবং আমরা এগুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। নিষিদ্ধ যারা চরমপন্থি যারা আছে তাদের হাতে এগুলো যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে আমি ধারণা করছি’- যোগ করেন র্যাব-১২ অধিনায়ক আতিকুর।

