ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে অক্টোবরে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৯৭ জন। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৬৯২ জন।
অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ডেঙ্গুতে দৈনিক গড় মৃত্যুর সংখ্যা ছয়। অথচ গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, অর্থাৎ দৈনিক গড়ে মারা গেছেন প্রায় পাঁচজন। সে হিসাবে সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে দৈনিক গড় মৃত্যু বেড়েছে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এ চিত্র।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে গত ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩৪২ জন। তাদের মধ্যে ১৭২ জন নারী ও ১৬৫ জন পুরুষ। বাকি পাঁচজনের লিঙ্গভিত্তিক তথ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ১৯৯ জন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮৭২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬০ জন, ঢাকা বিভাগে ৩১৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩২৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৩৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬ জন, রংপুর বিভাগে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন।
একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় তিনজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছেন।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ‘অনেক সময় অসুস্থ হলেও বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন কেউ কেউ। আবার নারীদের ক্ষেত্রে ঘরের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কারণেও চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হতে পারে। আবার পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের স্বাধীনতা সীমিত থাকলে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিলম্বিত হয়। ফলে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হলে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে।’
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং রোগের বিপৎসংকেত সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। সম্প্রতি এক বক্তব্যে এ বিষয়ে মেডিসিন ক্লাবের সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।





