সমাজকল্যাণমন্ত্রী
অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপনে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিনে কথা বলছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগেই দেশে একটি টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার ঢাকার মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বাংলাদেশ-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স অন লাইভ অ্যান্ড ডিসিসড ডোনার কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অঙ্গদান মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা বহু মরণাপন্ন রোগীর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে।
তিনি জানান, ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে মৃত ব্যক্তির কিডনি। এই সময়ের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ ট্রান্সপ্লান্ট কো-অর্ডিনেটর তৈরির মাধ্যমে দেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের প্রসারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, লাইভ ও ডিসিজড ডোনার ট্রান্সপ্লান্টেশন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাজার হাজার কিডনি রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব। এই সম্মেলন দেশে অঙ্গদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং কিডনি চিকিৎসার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগী এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং তাদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করেন। দেশে বছরে মাত্র কয়েকশ কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে মৃত ডোনারের কিডনি থেকে প্রতিস্থাপনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। আর্থিক সংকটের কারণে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় ট্রান্সপ্লান্ট সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন।
বক্তারা বলেন, কিডনি চিকিৎসা আরও সুলভ ও সহজলভ্য করতে নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। একই সঙ্গে মৃত ডোনার থেকে অঙ্গদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং কিডনি প্রতিস্থাপন সেবা সম্প্রসারণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তারা।
অধ্যাপক (নেফ্রোলজি) হারুন-উর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য দেন রাফায়েল ইন্টারন্যাশনাল ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং এশিয়ান সোসাইটি অব ট্রান্সপ্লান্টেশনের মহাসচিব অধ্যাপক কিউরি আন, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি এলএইচডি ওয়েস্টমিড রিসার্চ হাব কাউন্সিলের প্রধান অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান, দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়ার স্থায়ী কমিশনার এমেরিটাস অধ্যাপক ইন সুং মুন, ড্যানভিট ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের এমডি অধ্যাপক হি ইয়ং শিন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। স্বাগত বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল। সম্মেলনে অংশ নেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেফ্রোলজিস্ট, ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।




