লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে নিতে হবে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা

ছবি: আগামীর সময়
স্তন ক্যানসার নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর দেশে হাজার হাজার নারী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এ জন্য লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলে ‘স্তন ক্যানসারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়। স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যানসার কোনো অসাধ্য রোগ নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই নারীদের মধ্যে এ রোগ নিয়ে প্রচলিত লজ্জা, ভয় ও দ্বিধা দূর করে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সংলাপ শেষে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস পালন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার পালিত হলো ১৪তম স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস।
ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশে ক্যানসার আক্রান্তের প্রকৃত চিত্র জানতে জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন জরুরি। একই সঙ্গে রোগ শনাক্তের পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং কার্যক্রম বাড়ানো এবং চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার সংকট রয়েছে। তবে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হলে সীমিত চিকিৎসাসুবিধা দিয়েও আরও বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া যাবে।
অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রোগ প্রতিরোধকে গুরুত্ব দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলছেন। এ কারণে তিনি আশাবাদী। তবে ক্যানসার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের জন্য স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত ৪০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।
সংলাপে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন, বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, সিসিপিআরের চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরসহ অন্যরা অংশ নেন।





