উন্নত চিকিৎসার আশাই কি হয়ে গেল অন্তিম যাত্রা?

সংগৃহীত ছবি
উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকায় রওনা হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম দম্পতি। তাদের সেই যাত্রা রূপ নিল জীবনের শেষ যাত্রায়। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসে ছিলেন তারা। বাস উদ্ধার হলেও নিখোঁজ জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মুক্তা খানম। একদিকে স্বজনদের আহাজারি, অন্যদিকে ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
নিখোঁজ জাহাঙ্গীর আলম (৫০) ও মুক্তা খানম (৪৫) রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী। জাহাঙ্গীর আলম দুই ছেলেকে রেখে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
চিকিৎসার আশায় ঘর থেকে বের হওয়া এই দম্পতির হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষকেই শোকাহত করে তুলেছে। তাদের স্বজনরা এখনো অপেক্ষায়— হয়তো কোনো অলৌকিকভাবে ফিরে আসবেন তারা, অথবা মিলবে অন্তত একটি নিশ্চিত খোঁজ।
স্বজন মাহবুবুর রহমান জানান, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে দম্পতি কালুখালী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন। কিন্তু দৌলতদিয়া পৌঁছানোর পরই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের ভাষ্য, একটা বাস কি করে পন্টুনে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়, এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ শুরু হলেও অগ্রগতি হয় ধীরগতিতে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। তবে প্রশ্ন উঠেছে— এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফেরিঘাটে নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল? কেন একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যাবে? দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কি যথাযথ সতর্কতা নিয়েছিলেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ফেরিঘাট এলাকায় শৃঙ্খলার ঘাটতি ও তদারকির অভাব রয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই কোনো দুর্ঘটনার পর সাময়িক তৎপরতা দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধান আর হয় না।
এদিকে নিখোঁজ জাহাঙ্গীর আলম দম্পতির পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা। তাদের একটাই প্রশ্ন— এই অবহেলার দায় নেবে কে? আর কত পরিবার এভাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে যাবে পদ্মা নদীর অতল গহ্বরে!

