অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সরকারের আপসহীন অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পুলিশের পদোন্নতি, পদায়ন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের কৌশল উঠেে আসে। এ ছাড়া নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ও ছিল তার বক্তব্যে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় আপনাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের মুখোমুখি হতে হয়। আজ পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করবেন না, যে অপরাধ করবে তাকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন। আইনের প্রয়োগ সবার জন্যই সমান। আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে।'
সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের সঙ্গে কোনো আপস করতে চায় না বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, 'এ মুহূর্তে সারা দেশের মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনারা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালনে সক্ষমতার পরিচয় দিলে বর্তমান সরকারও নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে একধাপ এগিয়ে যাবে। সীমাবদ্ধতা থাকলেও সক্ষমতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারলে আমরা সফল হব।'
প্রযুক্তির কারণেও যে অপরাধ বেড়েছে, সে বিষয়টিও উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, বর্তমানে 'ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম' বৈষয়িক বাস্তবতা। এ কারণে বিশেষ করে প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বহুমুখীভাবে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। এমন বাস্তবতায় পুলিশ প্রশাসনে নির্দিষ্ট কিছু পদ নয়, প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রশাসনের সব পদেই কাজ করার পেশাদারি মানসিকতা থাকা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'শুধু পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হয়তো সাময়িক তুষ্টি লাভ করেন, তবে সেটি পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করা হয়।’
সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছরের, জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়- বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
একটি সরকারের সাফল্যের জন্য দক্ষ এবং নিরপেক্ষ পুলিশের বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'বিপদে পড়লে মানুষ প্রথমে পুলিশের কাছেই যায়। পুলিশ চাইলে আইনি এবং কৌশলী ভূমিকা নিয়ে অনেক ঘটনা শুরুতেই নিষ্পত্তি করতে পারে।'
গত দেড় বছরে বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে এবং অনেক ক্ষেত্রে মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার পুলিশকে সত্যিকারের জনবান্ধব বাহিনীতে রূপ দিতে চায় জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই সরকার এমন একটি পুলিশ প্রশাসন চায়, যেটি হবে জনবান্ধব এবং জনগণের আস্থাভাজন।
পুলিশকে আয়না হিসেবে বিবেচনা করে সরকার। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হবে আইনগত এবং মানবিক। কাজেই তারা যেন জনবান্ধব হতে পারে সেই তাগিদও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলছিলেন, 'সমাজ ও রাষ্ট্রে নানা কারণে মানুষ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এর অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক বৈষম্য। এ কারণেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং নাগরিকদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবলয় নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।'
প্রধানমন্ত্রী আবারও বলেছেন, 'সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের মূলনীতি। আমরা জানি, পুলিশের দায়িত্ব কখনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।’
সরকারকে জনগণ কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তার অনেকটাই পুলিশের আচরণ ও কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আউলাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তারা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সংকটে পুলিশ কর্মকর্তাদের ত্যাগ, কর্মকাণ্ড এবং পুলিশ বাহিনীকে উন্নত করতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নানা উদ্যোগের চিত্র নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়।
রবিবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।







