মহিলা সমিতির মঞ্চে সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহাল চান ১০১ নাট্যকর্মী
- আর্থিক চাপে নাট্যদলগুলো
- নাটক মঞ্চায়নে নেই আগ্রহ

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর নাটক সরণির (বেইলি রোড) বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ১০১ জন নাট্যকর্মী। তাদের মধ্যে দেশের খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পী, নাট্যনির্দেশকসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষকও আছেন। আজ রবিবার থিয়েটার বিষয়ক পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’র নির্বাহী সম্পাদক অপু মেহেদী সংবাদমাধ্যমে বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর হিসাবে ১১ মাসের জন্য চাওয়া ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি প্রণোদনা অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।’ একইসঙ্গে নাট্যদলগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে নাট্যচর্চার সামগ্রিক প্রণোদনার অর্থের পরিমাণ বাড়ানো এবং নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তারা। দেশের নাট্যচর্চা ও নাট্যঐতিহ্যের স্বার্থে এই দাবি বিবেচনা করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে— এটাই তাদের প্রত্যাশা।
ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে আগে এক শিফটে নাটক মঞ্চায়নের জন্য ভাড়া দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে নাট্যদলগুলোকে একই শিফটের জন্য গুনতে হচ্ছে সাড়ে ১১ হাজার টাকা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে এই ব্যয়। এতে আর্থিক চাপে পড়েছে নাট্যদলগুলো; কমেছে মিলনায়তনটিতে নাটক মঞ্চায়নের আগ্রহও।
এ বিষয়টি নিয়ে গত ২০ অক্টোবর ‘ভর্তুকি বন্ধে ভাড়া দ্বিগুণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক আগামীর সময়। ওই খবর প্রকাশের পাঁচ দিনের মধ্যে এবার বিবৃতি দিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন নাট্যকর্মীরা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা মনে করি, মহিলা সমিতির মঞ্চে নাট্যচর্চা অব্যাহত রাখতে দ্রুত সরকারি ভর্তুকি পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। দেশের নাট্যচর্চার সৃজনশীল বিকাশ অব্যাহত রাখতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৩ সালে মহিলা সমিতির মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতির সূচনা হয়। নাট্যদলগুলোর কর্মচাঞ্চল্যে মুখর এই সড়কের নাম ২০০৫ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আনুষ্ঠানিকভাবে রাখেন ‘নাটক সরণি’। স্বাধীন বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় মহিলা সমিতির এই মঞ্চের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু মিলনায়তন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেক নাট্যদলই এখন এই মঞ্চে নাটক মঞ্চায়নে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। টিকিট বিক্রি করে প্রদর্শনীর খরচ তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নাট্যচর্চার এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নাট্যদলগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকারি উদ্যোগ জরুরি।
২০১৭ সালের জুনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য প্রণোদনা বাবদ সরকারি অনুদান চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটির বিপরীতে সাড়ে ৬ হাজার টাকা হিসাবে ১১ মাসের জন্য মোট ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘দেশের নাট্যঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই প্রণোদনা বহাল রাখা সরকারের দায়িত্ব। বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এমনিতেই খুব সামান্য। সেই সামান্য পৃষ্ঠপোষকতাও বন্ধ হয়ে যাওয়া হতাশাজনক।’
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন– সৈয়দ জামিল আহমেদ, সারা যাকের, অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, কামাল হোসেন, মাসুম রেজা, মামুনুর রশীদ, মোহাম্মদ আলী হায়দার, কামালউদ্দিন কবির, রামেন্দু মজুমদার, অলোক বসু, ইউসুফ হাসান অর্ক, ফেরদৌসী মজুমদার, হারুন রশীদ (নাট্যকার), ঠান্ডু রায়হান, রতন সিদ্দিকী, আহমেদ ইকবাল হায়দার, শামীমা শওকত লাভলী, ত্রপা মজুমদার, শামীম জামান, আক্তারুজ্জামান, কামরুল হাসান, সাইফুল জার্নাল, ফজলুর রহমান বাবু, জ্যোতি সিনহা, হুমায়ুন আজম রেওয়াজ, শরীফ হাসান চৌধুরী, হামিদুর রহমান পাপ্পু, অনন্ত হিরা, জয়িতা মহলানবিশ, বাকার বকুল, ওয়াসিম আহমেদ, শুভাশিস সিনহা, সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা, শুভাশিস দত্ত তন্ময়, তোসাদ্দেক হোসাইন মান্না, কাজী রুখসানা রুমা, কাজী রাকিব, আবু আজাদ, আশিকুর রহমান লিয়ন, রূবাইয়াৎ আহমেদ, নাহিদ স্মৃতি, শামীম সাগর, আপন আহসান, মলয় ভৌমিক, অপু মেহেদী, রুমা মোদক, শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী, মোহসিনা আক্তার, সামিউন জাহান দোলা, চারু পিন্টু, মাহফুজ সুমন, নূনা আফরোজ, শতাব্দী ওয়াদুদ, মীর জাহিদ হাসান, মামুন রেজা সৈয়দ, হাবিব জাকারিয়া উল্লাস, পাভেল রহমান, জাহিদ রিপন, ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, নাজনীন হাসান চুমকী, তৌফিকুল ইসলাম ইমন, জগন্ময় পাল, পারভীন পারু, সোহেল মন্ডল, ক্যাথরিন পিউরিফিকেশন, শহীদুল মামুন, ড. বাবুল বিশ্বাস, আনন জামান, গোলাম শাহরিয়ার সিক্ত, আজাদ আবুল কালাম, রোজী সিদ্দিকী, শাহেদ আলী, খোরশেদুল আলম, অধ্যাপক শফি আহমেদ, আরিফ হায়দার, সাইদুর রহমান লিপন, মোহাম্মদ বারী, মারুফ কবির, শহীদুজ্জামান সেলিম, খন্দকার রাকিবুল হক, এম এস রানা, সাইফ সুমন, সুবীর মহাজন, অসীম দাশ, তামান্না হক সিগমা, সামিনা লুৎফা, রেজা আরিফ, রহমান রাজু, তানভীর নাহিদ খান, শামীমা আক্তার মুক্তা, কাজী নওশাবা আহমেদ, আমিনুর রহমান মুকুল, অম্লান বিশ্বাস, মাজহারুল ইসলাম তোকদার, মুস্তাফিজ শাহীন, কুন্তল বড়ুয়া, শাহনাজ জাহান, শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, সাজ্জাদ সাব্বির, শরণ এহসান ও ফারুক আহমেদ।



