বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় কবি আল মুজাহিদী

কবি আল মুজাহিদীর কফিনে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী। আজ শনিবার বিকালে সেখানে দাফন করা হয় তাকে। এর আগে এদিন বেলা ১১টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কবির মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
সেখানে ঢাকা জেলার একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিকে। জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরাম আয়োজিত শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে কবির দীর্ঘদিনের বন্ধু, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা শ্রদ্ধা জানান। বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেছেন, ‘আল মুজাহিদী ছিলেন একজন চৌকস সাহিত্য সম্পাদক। ষাটের দশক থেকে মৃত্যু অবধি কবিতায় সোচ্চার ছিলেন তিনি। নিজে যেমন লিখতেন, তেমনি কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা ও তাদের নিয়ে বিচিত্র রচনা সৃষ্টির মাধ্যমে সংস্কৃতির একটি উজ্জ্বল মান গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন।’
কবিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, কবি আবদুল হাই শিকদার, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, শাহীন রেজা, তপন বাগচী, রাজু আলীম ও আবিদ আজমসহ অনেকে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন বাংলাদেশের সংস্কৃতিজগতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন আল মুজাহিদী। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, অনুবাদসহ সাহিত্যের নানা শাখায় অবাধ বিচরণ ছিল তার। সংস্কৃতিমনস্ক জাতি গঠনে তার অবদান দীর্ঘদিন মনে রাখবে দেশবাসী।’
কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, ‘আমাদের মাথার ওপর একজন অভিভাবক ছিলেন আল মুজাহিদী। ষাটের দশকের ছাত্রনেতা, একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও বরেণ্য সাংবাদিক আল মুজাহিদীর মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
পরে দুপুর ১২টায় আল মুজাহিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে। সেখানে কবির ইচ্ছা অনুযায়ী জানাজা পরিচালনা করেন মাওলানা মাসুম বিল্লাহ। পরে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কবি আল মুজাহিদী আর নেই
১৯ জুন ২০২৬
প্রেস ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, আমাদের দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান, সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, কবি মজিদ মাহমুদ, নেত্রকোনা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রফিক মুহাম্মদসহ অনেকে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেছেন, ‘এই কবিকে জীবদ্দশায় বাংলা একাডেমি পদক দেওয়া হলো না, স্বাধীনতা পদকও দেওয়া হলো না। তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে।’
বাবা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ছেলে শাবিব আল মুজাহিদী বলেছেন, ‘আমার বাবা একজন কবি, দার্শনিক ও বহুভাষাবিদ ছিলেন। অথচ বিগত সরকার তার বিরুদ্ধেও আদালতে গাড়ি পোড়ানোর মামলা দেয়। বাবা প্রায়ই বলতেন, একজন কবি কখনো খুনি হতে পারেন না।’
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জাতীয় প্রেস ক্লাবে কবির মেয়ে পরমা মুজাহিদও উপস্থিত ছিলেন। পরে বায়তুল মোকাররমে চতুর্থ জানাজা শেষে বিকাল চারটায় তাকে দাফন করা হয় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।
প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার বেলা ১টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি আল মুজাহিদী।






