জুলাই গণঅভ্যুত্থান জঙ্গি তৎপরতা নয় : আদালত

সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই সশস্ত্র বা জঙ্গি তৎপরতা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।
এতে আরও বলা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তার অপরিহার্য এবং প্রধান চরিত্রের বিচারে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোর সুরক্ষাপ্রাপ্ত একটি নাগরিক আন্দোলন ও গণবিক্ষোভ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
গত ৯ এপ্রিল এই মামলার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তবে ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয় গত রবিবার। গতকাল সোমবার রায়ের কপি হাতে পান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সেখানেই পাওয়া যায় আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ।
এসব সাংবিধানিক বিধান নিশ্চিত করে, নাগরিকরা জনস্বার্থ, সামাজিক ন্যায়বিচার, সরকারি নীতি বা সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কিত অভিযোগ বা দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ, সংগঠিত হওয়া এবং সমষ্টিগতভাবে মতপ্রকাশ করার অধিকার রাখেন; যতক্ষণ পর্যন্ত এসব কার্যক্রম সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বা সাংবিধানিক ব্যবস্থা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পরিচালিত না হয়।
এই সাংবিধানিক নিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেকে উদ্ভূত জুলাই-আগস্টের ছাত্র নেতৃত্বাধীন দেশব্যাপী আন্দোলন একটি নাগরিক আন্দোলনের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বহন করে, উল্লেখ করেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ শুধু ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং সময়ের প্রবাহে এর কার্যকারিতা নিঃশেষ হয়ে যায়নি, মত এই ট্রাইব্যুনালের। রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, বরং এই আইন একটি চলমান ও জীবন্ত আইনগত দলিল, যা দেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং প্রথাগত আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের নীতি উভয়কেই ধারণ করে।
ট্রাইব্যুনাল আরও মত দেন, এই আইনে কোনো সময়গত সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধ যুদ্ধকাল কিংবা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যেকোনো সময়েই হতে পারে। এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাত বা জাতিগত বৈরিতার প্রয়োজন নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও সেই রাষ্ট্রের নিজস্ব বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত হতে পারে।
ফলে ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ এখনো পূর্ণমাত্রায় কার্যকর ও স্থায়ী একটি বিচারিক উপকরণ, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করতে সক্ষম।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার দায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের এ মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২




