এমপি নজরুলের স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যা, মামা ওবায়দুর ৪ দিনের রিমান্ডে

সংগৃহীত ছবি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় মামা ওবায়দুর রহমানের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য জানান।
এদিন আসামি ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, এটা হত্যা, না আত্মহত্যা তা বের করা দরকার। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সবকিছু বের হয়ে আসবে।
ওবায়দুরের পক্ষে তার আইনজীবী গোলাম সাবের চৌধুরী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চান। শুনানিতে তিনি বলেন, নজরুল ইসলামকে দুই দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে তার (ওবায়দুরের) বিরুদ্ধে কিছু আসেনি। বিয়েতে সাক্ষী থাকতে পারেন, তবে আত্মহত্যার প্ররোচনায় নেই। রিমান্ড বাতিল করে তার জামিন চেয়েছি।
এর আগে গ্রেপ্তারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। এতে এমপি গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং বাদীর শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর মাকসুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে ও গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী মাসুম বিল্লাহ আদালতে উপস্থিত হয়ে আপস-মীমাংসা হয়েছে উল্লেখ করে হলফনামা জমা দেন। তিনি আদালতকে জানান, তারা জামিন পেলে আমার আপত্তি নেই। শুনানি শেষে মাকসুদার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। তবে গাজী নজরুলের জামিন নাকচ করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল অনুমান সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিকটিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় আসতে বলেন। বাসায় এসে দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত। তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে মরিয়ম ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে।
শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। এসময় বিছানার ওপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।





