সিসা লাউঞ্জ বন্ধে ব্যবস্থা নেই
ডিএমপি কমিশনারকে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের আবেদন

ফাইল ছবি
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত সিসা/হুক্কা লাউঞ্জ বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ডিএমপি কমিশনারকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে হাইকোর্টের কাছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এ আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।
আবেদনকারী আইনজীবী জানিয়েছেন, এর আগে জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা সিসা বা হুক্কা লাউঞ্জে তামাকজাত দ্রব্য ও মাদকসদৃশ উপাদান সেবনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন অভিজাত এলাকা ও বাণিজ্যিক জোনে পরিচালিত এসব সিসা লাউঞ্জ তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকদ্রব্য বিস্তারে ভূমিকা রাখছে এবং প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন করেই ব্যবসা পরিচালনা করছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ৩ মার্চ রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয় ডিএমপি কমিশনারকে। কিন্তু আদালত নির্ধারিত সময় পার হলেও কার্যকর কোনো অভিযান, দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ কিংবা আদালতে কোনো সন্তোষজনক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার দায়ের করা আদালত অবমাননার অভিযোগে।
এতে বলা হয়, রাজধানীর বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে পরিচালিত হচ্ছে সিসা লাউঞ্জ। এসব প্রতিষ্ঠানে তামাকজাত দ্রব্যের পাশাপাশি মাদকসদৃশ উপাদান ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
আবেদনে উল্লেখ রয়েছে, সংবিধানের ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আদেশ ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও নিষ্ক্রিয়তা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
আবেদনে ডিএমপি কমিশনারকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশ অমান্যের দায়ে আদালত অবমাননার কার্যক্রম গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
আবেদনের বিষয়ে অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেছেন, ‘জনস্বাস্থ্য, তরুণ সমাজ এবং আইনের শাসনের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। কিন্তু বাস্তবে যদি অবৈধ সিসা লাউঞ্জ চলতেই থাকে, তাহলে তা আদালতের আদেশের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব।’




