‘তামিমা শত্রু নয়, ন্যায়বিচার পেতে লড়াই করেছি’
- নাসির-তামিমার রায় বুধবার

রাকিব হাসান। ছবি: সংগৃহীত
‘জোর করে তো একসঙ্গে থাকা যায় না। সে তো আমার শত্রু না। কেউ ইচ্ছে করলেই যাতে কারো বউ ভাগিয়ে নিতে না পারেন। এজন্য পাঁচ বছর ধরে ন্যায়বিচার পেতে লড়েছি।’ নিজের প্রাক্তন স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি সম্পর্কে এভাবেই বলছিলেন রাকিব হাসান।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তার করা মামলায় তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনে রায় ঘোষণা দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম কাল বুধবার এ রায় ঘোষণা করবেন।
মামলার বাদী রাকিব হাসান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘প্রেম করে ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানাকে ৩ লাখ এক টাকা দেনমোহরে বিয়ে করি। বিয়ের পর আমার মা-বাবা তাকে (তামিমা) লেখাপড়া করাতে নিষেধ করেছিল। ভালো ছাত্রী হওয়ায় তাকে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। এজন্য আমাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবুও স্বামী হিসেবে তার জীবন গোছাতে যা প্রয়োজন তাই করেছি। এত কিছুর পর আমার সাজানো সংসার ধ্বংস হয়েছে। আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে।’
রাকিবের অভিযোগ, ‘মা হিসেবে মেয়ের কোনো খোঁজ নেয়নি তামিমা। এমনকি নিজের হেফাজতে নিতে কোনো আইনি উদ্যোগও নেয়নি। তালাক না দিয়ে এইভাবে চলে যেতে পারে না। ধর্মীয় ও আইনিভাবে তালাক দিয়ে চলে যেত। তাহলে সমস্যা ছিল না। এই মামলার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক। সমাজের সবার কাছে বার্তা যাক।’
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাকিব হাসান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক (নি.) শেখ মো. মিজানুর রহমান তিনজনকে দোষী উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে এ মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছর ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। বিচার চলাকালে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। চলতি বছরের ১০ মার্চ মামলাটিতে আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। গত ৮ এপ্রিল তামিমার সাফাই সাক্ষী শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৬ মে দিন ধার্য করেন। ৬ মে যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য ১০ জুন দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসিরের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্রপত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় নাসিরকে বিয়ে করেন তামিমা, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়। তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নাসির নিজের কাছে নিয়ে গেছেন। তামিমা ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে শিশুকন্যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপে রাকিবের চরম মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
আইনজীবী ইশরাত হাসান ভাষ্য, নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সাক্ষ্যে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি। তাদের সাজা নিশ্চিত হলে সমাজে ব্যভিচার কমে যাবে।
তবে আসামিপক্ষের আজিজুর রহমান দুলু বলছিলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। প্রত্যাশা করছি, তারা বেকসুর খালাস পাবেন।




