কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ইনু
২২ মাস ধরে লাল-সবুজ খাতায় সব লিখে রাখছি

আদালতে নেওয়ার পথে হাসানুল হক ইনু। ছবি: আগামীর সময়
জুলাই আন্দোলনের সময় মো. মোখলেছিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে আদালতে হাজির করা হয়। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি চলছিল।
এ সময় বিচারকের উদ্দেশে ইনু বলেছেন, ‘আমি জেলখানায় একটি সবুজ খাতা ও একটি লাল খাতা তৈরি করেছি। সেখানে আমি ২২ মাস ধরে আদালতের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কী করছেন, বিচার প্রশাসনের কে কী করেছেন, কোন কর্তৃপক্ষ কী করছে—সব লিপিবদ্ধ করেছি। আদালত আমাদের সাড়ে চার ঘণ্টা হাজতখানায় বসিয়ে রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করেছে। আমার জীবন বিপন্ন করেছে।’
‘ড. ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালে বলেছিলেন, দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। সেই সুবাতাস কি আদালতপাড়ায় আসেনি? আদালত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা হিসেবে কাজ করছে। আপনার মাধ্যমে (বিচারক) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব, তিনি অনেক জায়গায় গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু আদালতপাড়ায় এখনো গণতন্ত্র আসেনি।’—যোগ করলেন তিনি।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদের ভাষ্য, আসামি ইনুর বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। লাল খাতা ও সবুজ খাতার কথা বলে তিনি আদালতকে হুমকি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিচারক পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিন কারাগার থেকে সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে তাদের এজলাসে তোলা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে ১৮ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার এসআই আশরাফ হোসেন তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে বংশাল থানার নাজিমউদ্দিন রোড এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন মোখলেছিন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর তিনি ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলা করেন।





