আগামীর সময়

সাগর-রুনি হত্যার ১৪ বছর, তদন্তে গতি নেই

সাগর-রুনি হত্যার ১৪ বছর, তদন্তে গতি নেই

সংগৃহীত ছবি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ১৪ বছর পার হয়েছে। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আসেনি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এতে পরিবারে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও গত ১৪ মাসে প্রতিবেদন না আসায় সেই আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আবারও হতাশায় ডুবে আছে স্বজনরা।

মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, এই সরকারের কাছে অন্তত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি, যা তাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর মনে হয়েছিল এত বছর যা হয়নি, এবার অন্তত হত্যার কারণ ও জড়িতদের নাম জানা যাবে। এখন তার মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রের ভেতরের শক্তি জড়িত থাকার কারণেই হয়তো এই ঘটনার কূলকিনারা হচ্ছে না।

সাগরের মা সালেহা মনির বলেন, বিচার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আশাটা ছাড়তে পারেন না। তিনি বলেন, মা হিসেবে যত দিন বেঁচে আছেন তত দিন সন্তানের হত্যার বিচার চাইবেন। ইউনূস সরকারের সময় কিছু একটা হবে বলেও আশা করেছিলেন।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। বলার মতো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। তদন্তে যা সত্য, সেটাই উঠে আসবে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পিবিআই প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হককে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১২৪তম বারের মতো প্রতিবেদন পেছানো হয়েছে। নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ১ এপ্রিল।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলানগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    শেয়ার করুন: