আইনি জটিলতার অবসান
দ্রুত প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের ৩৬২৩৫ শূন্যপদে নিয়োগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক রায়ে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। একটি মামলার কারণে ২০১৩ সাল থেকে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। আপিল বিভাগ অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার অংশবিশেষকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেছেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
বিষয়টি সুরাহা হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলছিলেন, ‘বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্যপদ রয়েছে। এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য হবে। এসব শূন্যপদেও দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
প্রধান শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি উপলক্ষে সচিবালয়ে গতকাল এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আইনি জটিলতা দূর হওয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলও মন্তব্য করেন, সারা দেশে ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা নিরসন হলো।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, সরকার ২০১৩ সালে ‘অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা’ প্রণয়ন করে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বিভিন্ন শ্রেণির বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করে।
বিধিমালার বিধি ৯(১)-এ বলা হয়, সকল শিক্ষক সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন এবং নিয়োগ প্রদানের তারিখ হতে কার্যকর চাকরিকালের ভিত্তিতে শিক্ষক পদে তাদের জ্যেষ্ঠতা গণনা করা হবে এবং উক্ত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে নিয়োগবিধির অধীন শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে উক্ত শিক্ষকদের অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
পরে বিধিমালার ৯(১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে রিট করেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল চূড়ান্ত শুনানি করে হাইকোর্ট ২০১৯ সালের ১১ মার্চ রায় দেন। রায়ে ওই বিধির অংশবিশেষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়।
তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। পরবর্তীকালে সেই লিভ টু আপিল গ্রহণের পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।




