অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী রিমান্ডে

অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিক- সংগৃহীত
ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বতের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনায় মামলা হয়েছে মহব্বতের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন আসামি মহব্বতকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই কাজী আব্দুল মান্নান তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
শুক্রবার দুপুর ২ টা ২২ মিনিটের দিকে হাসপাতালের ৮ তলার একটি কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বড় ভাই মোজাম্মেল হক শনিবার ধানমন্ডি মডেল থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর হাসপাতাল থেকে মহব্বতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলায় বিবরণে বলা হয়েছে, মহব্বতের তীব্র পেটে ব্যথা হলে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতে তাকে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মহব্বতের শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে সিট/কেবিন খালি না থাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ তলার ৮১৩ নং কেবিনে ভর্তি করে রাখা হয়। তাকে দেখাশোনার জন্য ঝিলিক হাসপাতালে অবস্থান করেন।
পরে মহব্বতকে দেখতে শুক্রবার সকালে তার বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম পক্ষের ছেলে হাসপাতালে আসে। সুস্থ হওয়ায় সকাল ১০ টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয় হাসপাতাল থেকে। বিষয়টি ঝিলিক তার বোন মোজাম্মেল জানায় এবং হাসপাতালে বিলের জন্য ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। দুপুর সোয়া ১ টার দিকে ঝিলিকের সঙ্গে তার ছোট বোন রেশমি আক্তারের ভিডিও কলে কথা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর মহব্বত ঝিলিকের বাবাকে ফোন করে জানায়, ঝিলিক কেবিনের পেছনের খোলা বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে মারা গেছেন।



