ঢাকা উত্তরের প্রশাসক এজাজকে অপসারণ

ফাইল ছবি
দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার পর এবার পদ থেকে অপসারিত হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহানকে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিন সকালে এই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
তাতে বলা হয়, "নিয়োগকৃত প্রশাসক সুরাইয়া আক্তার জাহান ঢাকা উত্তর সিটির মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি নিজের বর্তমান পদের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। বিধি মোতাবেক তিনি কেবল ‘দায়িত্ব ভাতা’ পাবেন, তবে অন্য কোনো আর্থিক বা আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন না।"
রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজকে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি এক বছরের জন্য ডিএনসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। তখন থেকেই বিতর্কিত তিনি। মেয়াদ শেষের তিন দিন আগেই তাকে অপসারণ করা হলো।
তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সামনে আসে ২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও।
তবে হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে সে সময় বিবৃতি দেয় ডিএনসিসি। গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করলেও সেটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে দাবি করেন এজাজ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করার জন্য আমাকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এটা সত্য কথা। আমার অফিসে পুলিশ এসেছিল, কয়েকজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেখানে আমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।’
এরপর গত এপ্রিলে রাজধানীর গাবতলীর গবাদি পশুর হাট ইজারার দরপত্র বাতিলের ঘটনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ডিএনসিসি কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। প্রশাসক ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেন কর্মকর্তারা।
পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুদক জানায়, গাবতলী গরুর হাটের ইজারা দরপত্রে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করার প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এজাজের বিরুদ্ধে এরপর বিভিন্ন সময় সিন্ডিকেট তৈরি করে ডিএনসিসির টেন্ডার বাণিজ্যসহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে।
দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর তদন্ত শুরু করে দুদক। কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ।
আবেদনে বলা হয়, 'মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।'
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধিনস্ত মিরপুর গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটনের ভাগ, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নানা বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথা বলছে দুদক।
আবেদনে বলা হয়, এসব অভিযোগের বিষয়ে এজাজের বক্তব্য শুনতে তাকে তলব করে নোটিশ পাঠানো হলেও দুদকে যাননি তিনি।

