ঈদ বিনোদন আয়োজন
সাম্বর হরিণে আকর্ষণ চিড়িয়াখানায়, শিশুমেলায় ‘বাউন্সি’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে নবরূপে সেজেছে রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো। দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকছে চিড়িয়াখানা, জাতীয় জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল, শ্যামলী শিশুমেলাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার আগামীর সময়কে বলেছেন, ঈদের সপ্তাহে সাত দিনই খোলা থাকবে চিড়িয়াখানা। সাধারণত রবিবার চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকে। এ সপ্তাহে সাপ্তাহিক ছুটি থাকছে না।
এবারের ঈদে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে ‘সম্বর হরিণ’। এটি প্রথম দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ছোট একটি জিরাফের বাচ্চাও কয়েক মাস ধরে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিচ্ছে। সেটিও থাকবে। এ ছাড়া নিয়মিত প্রদর্শনীর সব প্রাণীই থাকবে বলেও জানান চিড়িয়াখানার পরিচালক।
রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, ঈদের সপ্তাহে দর্শনার্থী যারা আসবেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে এবং সাধারণ দিনগুলোয় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও ঈদের সপ্তাহে খোলা থাকছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে। টিকিটের মূল্যও থাকবে সাধারণ দিনের মতোই।
জাতীয় জাদুঘর ও আহসান মঞ্জিল
রাজধানীর অনেকের কাছেই ঈদের ছুটি মানে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর ও পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিলে ঘুরে বেড়ানো। ঈদের দিন বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই দুই জাদুঘর। জাতীয় জাদুঘরের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা বিনামূল্যে ঈদের দিন এ দুটি জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবে। তবে শিশুদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের টিকিট লাগবে।
ঈদের পরের তিন দিন— শুক্রবার বেলা আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা এবং শনি ও রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল জাদুঘর এবং কুমিল্লার লাকসামের নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়ি জাদুঘরের গ্যালারি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
শ্যামলীর শিশুমেলা
এবারও ঈদে দর্শনার্থীদের আনন্দকে আরও রঙিন করতে নবরূপে সেজেছে রাজধানীর শ্যামলী ‘শিশুমেলা’, যা ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ড নামেও পরিচিত। ফ্যামিলি রাইড, কিডস রাইডসহ নানা আয়োজন থাকছে এই বিনোদনকেন্দ্রে। শিশুমেলার ব্যবস্থাপক রাজিবুল চৌধুরী আগামীর সময়কে বলেছেন, ঈদে পুরো সপ্তাহ খোলা থাকবে শিশুমেলা। এখানে এবার ‘বাউন্সি’ নামে নতুন একটি রাইড যুক্ত হয়েছে, এটিই ঈদের আকর্ষণ। এ ছাড়া মেরী গো-রাউন্ড, চুক চুক ট্রেন, হ্যানি সুইং, ক্রেজি কার, সোয়ান অ্যাডভেঞ্চার রাইডগুলো থাকছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের চাপ থাকলে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে।
একসময় শাহবাগের শিশুপার্ক নগরীর বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় হলেও কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন দিবসে শিশুদের ভিড় দেখা যায় শ্যামলীর শিশুমেলায়। এবারও দর্শনার্থীদের ঈদের আনন্দ দিতে শিশুমেলা পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পার্ক-সংশ্লিষ্টরা। শিশুমেলায় বিভিন্ন রাইডের পাশাপাশি ভেতরেই খাবারের জন্য রয়েছে রেস্তোরাঁ। পার্কটিতে প্রবেশে প্রত্যেককে গুনতে হবে ১০০ টাকা। আর প্রতিটি রাইডের জন্য দিতে হবে ৬০ টাকা করে। তিন বছরের কম বয়সের শিশুদের টিকিট কাটতে হবে না।
এ ছাড়া রাজধানীর রমনা পার্ক, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেক, চন্দ্রিমা উদ্যানসহ উন্মুক্ত পার্কগুলো ঈদে নগরীর মানুষের বিনোদনে যুক্ত করবে বাড়তি আনন্দ।






