উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত শক্তির প্রতিফলন: আনসার মহাপরিচালক

সংগৃহীত ছবি
শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং দায়িত্ববোধের ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার এ সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এ সমন্বিত কার্যক্রম আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজন ও জননিরাপত্তা কার্যক্রমে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত সাংগঠনিক কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব বণ্টন, তথ্য আদান-প্রদান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাহিনীর সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ সমন্বিত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের স্মরণ করে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মহাপরিচালক। এ উপলক্ষে কুড়িগ্রামের টিডিপি সদস্য লিমন শেখ (২২), গাইবান্ধার ভিডিপি সদস্যা পারভীন (৪৬) এবং টাঙ্গাইলের ফিরোজ খানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় দায়িত্ব পালনে বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেছেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে, সেখানে দায়িত্বে থাকা আনসার-ভিডিপি সদস্যরা তাৎক্ষণিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন। এ ধরনের দায়িত্বশীলতা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জনসমাগম ও চলাচল বাড়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পূজারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন মহাপরিচালক।
বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোর চারটি স্তরের সদস্যদের দায়িত্বের ধরন আলাদা হলেও জাতীয় নিরাপত্তা, জনসেবা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে তাদের সম্মিলিত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত আনসার সদস্য এবং তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবী ভিডিপি সদস্যদের জীবনমান ও আর্থসামাজিক সক্ষমতা উন্নয়নে ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যদের জীবনমান উন্নত হলে বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্মদক্ষতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে মহাপরিচালককে ফুল দিয়ে বরণ ও উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকেও পূজা উদযাপন কমিটিকে ফুল ও প্রীতি উপহার দিয়ে শারদীয় শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় পূজা কমিটির নেতারা সারাদেশের পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকারী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।



