চকবাজারে আগুন: ‘সব শেষ ভাই, আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি’
- আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে

ছবি: ভিডিও থেকে
‘সব শেষ ভাই। আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। আমার গোডাউন ছয়তলায় ভাই। আগুনের শুরুটা হইছে অন্য পাশে, আমরা তখনো নিরাপদে ছিলাম। এক ঘণ্টা আগেও আমরা নিরাপদে ছিলাম। এখন আমাদেরগুলোও জ্বলতেছে।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আর হাউমাউ করে কাঁদছিলেন এক ব্যবসায়ী।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস যখন আসছে, তখন আগুন অল্প পরিসরে ছিল। তিন ঘণ্টা ধরে তার কী করছে?’ প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেছেন, ‘যথেষ্ট পরিমাণে পানি পাওয়া যায়নি। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’ আগুনের খবরে ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজন। তাদের অনেকের চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক। আগুনের মধ্যে দোকান ও গোডাউনে থাকা মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় ছোটাছুটি করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের।
সারা দিনের বেচাকেনা শেষে কেউ হিসাব মেলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কেউ হয়তো পরদিনের ব্যবসার পরিকল্পনা করছিলেন। হঠাৎ ভবনের ওপরের তলা থেকে বের হতে শুরু করে কালো ধোঁয়া। মুহূর্তেই সেই ধোঁয়া রূপ নেয় আগুনের লেলিহান শিখায়। একের পর একতলা পেরিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে ভবনের বিভিন্ন অংশে, এমনকি পাশের ভবনেও। আর নিচে দাঁড়িয়ে অসহায় চোখে নিজেদের সাজানো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়তে দেখেন ব্যবসায়ীরা। কারও চোখে আতঙ্ক, কারও কণ্ঠে আহাজারি, কারও প্রার্থনায় তখন একটাই আকুতি, আগুন থেকে রক্ষা পাক তাদের শেষ সম্বল।
সুমন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ছয়তলায় যখন আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে তখন চার ও পাঁচতলায় মানুষজন ছিল। পরে আগুনের তীব্রতা যখন আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে তখন আমরা অন্য পাশে চলে যাই। আমরা তখন সামনে ছিলাম না। সন্ধ্যার পরও মানুষের হাট দেখেছি। পরবর্তী সময়ে তারা কই গেছে বা তাদের অবস্থা কেমন কিছুই বলতে পারব না।’
সোমবার বিকালে পুরান ঢাকার চকবাজারের মোগলটুলী এলাকার মনসুর ভবন, যা মনসুর আলী কমপ্লেক্স বা মনসুর প্লাজা নামেও পরিচিত, সেখানে এমনই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের ওপরের তলার একটি গোডাউন বা ব্যাগের দোকান থেকে প্রথম ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন তলায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিকাল ৫টার পর থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় ভবনের ওপরের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ওপরের তলা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে সেই ধোঁয়া ঘন হতে থাকে, দৃশ্যমান হয় আগুনের শিখা। একপর্যায়ে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, ভবনের কাচ ভেঙে নিচে পড়তে থাকে।
ব্যাগ, কসমেটিকস ও কেমিক্যালের গোডাউন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একতলা থেকে অন্য তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পাশের ভবনেও আগুনের প্রভাব দেখা যায়। আগুনের তাপে আশপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। একপর্যায়ে পাশের বৈদ্যুতিক লাইনের তারেও আগুন ধরে যায়।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজন। তাদের অনেকের চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক। আগুনের মধ্যে দোকান ও গোডাউনে থাকা মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় ছোটাছুটি করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে আগুন নেভানোর চেষ্টা। তবে ভবনের ভেতরে প্রবেশের পথ ও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে আগুনের উৎসে পৌঁছে পানি ছিটানো কঠিন হয়ে পড়ে।




