প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, অংশ নেবেন ৩৫ হাজার মুসল্লি

সংগৃহীত ছবি
পবিত্র রমজান শেষে আগামীকাল শনিবার দেশজুড়ে উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। এবারও প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ।
আশির দশকে ‘জাতীয় ঈদগাহ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই মাঠের ব্যবস্থাপনায় এখন কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। টানা ২৮ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাঠটিকে নামাজের উপযোগী করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বিশাল যজ্ঞ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘পি আর এন্টারপ্রাইজ’। শতাধিক কর্মীর ঘাম ঝরানো শ্রমে দাঁড়িয়েছে বিশাল এই প্যান্ডেল।
প্যান্ডেল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে ৪৩ হাজারেরও বেশি বাঁশ এবং ১৫ টন মজবুত রশি। রোদ-বৃষ্টির ঝাপটা থেকে মুসল্লিদের বাঁচাতে ওপরে টানানো হয়েছে ১ হাজর ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল। রাতের আঁধার কাটাতে ৯০০টি টিউবলাইট এবং ভ্যাপসা গরম কমাতে ১ হাজার ১০০টি ফ্যান (৯০০টি সিলিং ও ২০০টি স্ট্যান্ড ফ্যান) লাগানো হয়েছে।
এবারের ঈদের জামাত এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর এই প্রথম জাতীয় ঈদগাহের একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। এছাড়া প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে ময়দানটি হয়ে উঠবে এক মহামিলন মেলা।
জাতীয় ঈদগাহে এবার ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য সংরক্ষিত এলাকা রাখা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের পাশাপাশি নারীদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা নামাজের জায়গা ও ওজু করার সুব্যবস্থা। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লি এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
প্যান্ডেলের ভেতরেই ১৪০ জনের ওজু করার আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তৃষ্ণা মেটাতে রাখা হয়েছে সুপেয় পানির সরবরাহ। এছাড়া কোনো মুসল্লি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক সেবা দিতে দুটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।
নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। প্রতিটি কোণা নজরদারি করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে। ঈদগাহে প্রবেশের জন্য চারটি ফটক থাকলেও নামাজ শেষে হুড়োহুড়ি এড়াতে দ্রুত বের হওয়ার জন্য রাখা হয়েছে সাতটি পথ।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রস্তুতির কাজ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তারা জানান, সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। তবে প্রকৃতি যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, অর্থাৎ কাল যদি বৈরী আবহাওয়া বা ভারী বৃষ্টি থাকে, তবে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

