ইজারার শর্ত ভেঙে মাঠ দখল, চলছে পশু বিক্রি

ছবি: আগামীর সময়
ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে প্রায় ১৫ দিন আগেই দিয়াবাড়ি মাঠ দখল করেছেন ইজারাদার। সেই মাঠে চলছে পশু বেচাকেনাও। অথচ ইজারার শর্তে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে, কোরবানির দিনসহ তার আগের চার দিন অস্থায়ী হাট বসিয়ে পশু বিক্রি করা যাবে ওই মাঠে।
ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগের দেওয়া পশুর হাটের ইজারার শর্তের ৩ নম্বর ধারায় উল্লেখ থাকা শর্তটির তোয়াক্কাই করেনি ইজারাদার প্রতিষ্ঠান এসএফ করপোরেশন। যার স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন।
দিয়াবাড়ি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বাঁশের কাঠামোর মধ্যে গরু রাখা। হচ্ছে বিক্রিও। আর হাসিল নেওয়া হচ্ছে গোপনে। দুপুর ২টার দিকে প্রায় ঘণ্টাখানেক হাটে অপেক্ষা করে দেখা গেছে, প্রায় প্রতি মিনিটেই ট্রাকে করে গরু ঢুকছে হাটে। এসব গরু আসছে কুষ্টিয়া, পাবনা, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গা থেকে। প্রতি ট্রাকে ছিল অন্তত ১৫টি করে গরু। এসব গরুর সঙ্গে প্রতি ট্রাকে অন্তত ৩ জন করে ব্যবসায়ীকে দেখা গেছে।
কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী রিয়াজ মিয়া জানালেন, এই নিয়ে তৃতীয়বার দিয়াবাড়ির হাটে এসেছেন গরু নিয়ে। আগেই হাটে এসেছেন জায়গা দখল করতে। পরে আসলে ভালো জায়গা মেলে না। তবে এখনো গরু বিক্রি হয়নি তার। পাশের এক ব্যবসায়ীকে দেখিয়ে দিলেন যার গরু বিক্রি হয়েছে। সামনে এগিয়ে কথা হয় সেই বিক্রেতার সঙ্গে। তিনি জানালেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। এখন দুই-চারটা যা বিক্রি হচ্ছে তার হাসিল রেখে দিচ্ছেন ইজারাদাররা, পরে হাট শুরু হলে দেওয়া হবে হাসিলের রিসিভ (প্রাপ্তির কাগজ) কপি।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার থেকেই পশু বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা এসে দেখেশুনে দরদাম করে পশুর বায়না করেও যাচ্ছেন। অথচ হাট বসানোর আগেই পশু বিক্রি কঠোরভাবে নিষেধ করা আছে ইজারার শর্তে। জানার পরেও সেটা আমলে নিচ্ছেন না ইজারাদার।
হাটটির ১ নম্বর গেটের তদারকি করছিলেন এ এম এ জামান নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে পরিচয় দিলেন হাটের ভেন্ডর বলে। মূলত তিনিও হাটের ইজারার সঙ্গে যুক্ত। হাটের পশু বিক্রির খবর জিজ্ঞেস করতেই এড়িয়ে গেলেন বিষয়টি। জানালেন, আগে পশু নিয়ে আসলে রাস্তায় জ্যাম পান না ব্যবসায়ীরা। এত আগে হাটে পশু ওঠানো নিয়ম-বহির্ভূত জানানো হলে তার সটান উত্তর, ‘আমি যেদিন থেকে হাট ইজারা নিয়েছি, সেদিন থেকেই এখানে পশু ওঠাতে পারব। এটা কোনো নিয়ম লঙ্ঘন নয়। তাছাড়া ব্যবসয়ীরাও আগেভাগে পশু নিয়ে আসতে ইচ্ছুক। ফলে হাটে পশু উঠাচ্ছেন তারা। তবে বিক্রি করছেন না কেউ।’
বিকেল ৪টার দিকে হাটটির পাশেই এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান শেষে হাটে পশু বিক্রির তথ্য জানাতেই এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে জানালেন। চাইলেন প্রমাণ। প্রতিবেদকের ফোনে ধারণ করা পশুর হাটের চিত্র দেখাতেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন তিনি।
এ বছর এখন পর্যন্ত ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে ডিএনসিসি অস্থায়ী ১০টি হাটের। এ ছাড়া ইজারা প্রক্রিয়াধীন ৬টি হাটের। সব হাটের ইজারা চূড়ান্ত হতে পারে চলতি সপ্তাহেই।





