টিটন হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা ‘পিচ্চি হেলালের’, দাবি পরিবারের

ছবি: আগামীর সময়
খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং নিজেকে বাঁচাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
আজ শনিবার দুপুরে সেগুনবাগিচার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। এ সময় মামলার আইনজীবী জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানালেন, ‘গত ২৮ এপ্রিল রাতে পিচ্চি হেলাল একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে মিথ্যাচার করছেন। আমাদের পারিবারিক কলহের যে দাবি তিনি করেছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। মূলত তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতেই তিনি আশ্রয় নিয়েছেন অপকৌশলের।
আমরা ১১ ভাইবোন। সবার মধ্যে রয়েছে সুসম্পর্ক। বোন ও ভগ্নিপতি সানজিদুল হাসান ইমনের সঙ্গে আমাদের নেই কোনো বিরোধ। ইমন একজন উচ্চশিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। পিচ্চি হেলাল নিজের অপরাধ ঢাকতে এসব আবোল-তাবোল বকছেন, বলেছিলেন তিনি।
এ সময় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণও উল্লেখ করেন রিপন। জানালেন, পিচ্চি হেলাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও নিউ মার্কেট এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং আসন্ন কোরবানির পশুর হাটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিটনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। এ ছাড়া জেলখানায় থাকাকালেও টিটনের সঙ্গে তার সৃষ্টি হয়েছিল বিরোধ।
আমি আমার ফোন ফরেনসিকে দিতে প্রস্তুত। তবে দাবি জানাচ্ছি, পিচ্চি হেলালের ব্যবহৃত সব কটি মোবাইল ফোন জব্দ করে ফরেনসিকে পাঠানো হোক। তাহলে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য। ভয়ঙ্কর এই খুনি ও চাঁদাবাজ কখনো নিজের অপরাধ স্বীকার করে না, অডিও রেকর্ডে ফোন ফরেনসিক করার চ্যালেঞ্জের জবাবে জানান নিহতের বড় ভাই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পিচ্চি হেলাল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের সাবেক কমিশনার রাজু হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন। হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস আগে টিটন তার ভাইকে জানিয়েছিলেন, তাকে হত্যার নীলনকশা করছে হেলাল।
নিহত টিটনের পরিবার নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। পিচ্চি হেলালের দাপট ও অপপ্রচারের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া যেন প্রভাবিত না হয়।
কোরবানির পশুর হাটের ইজারা টিটন নিয়েছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটা মানুষ ছিলেন কারাগারে। এরপর বের হন তিনি। কারাগার থেকে বেরিয়ে কীভাবে কাগজপত্র প্রস্তুত করে ইজারা নেবেন তিনি? হয়তো চেয়েছিলেন অন্যদের লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করতে। তবে কী ঘটেছিল, আমার অজানা।’
কারাগার থেকে বেরিয়ে কোথায় থাকতেন টিটন— এমন প্রশ্নের জবাব দেন টিটনের ভাই। তিনি ছিলেন ধানমন্ডিতে। এর মধ্যে যশোরে গ্রামের বাড়িতে দেখা করেছিলেন মায়ের সঙ্গেও।
পিচ্চি হেলাল আগেও হুমকি-ধমকি দিয়েছিল, কিন্তু কোনো অভিযোগ থানায় দিয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, থানায় যেতে চেয়েছিলেন; কিন্তু ঝুঁকির কারণে হয়তো যায়নি তখন। সংবাদ সম্মেলন করে হুমকির বিষয়টি জানানোরও সুযোগ ছিল না টিটনের।



