খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব
সালিশে গিয়ে খুন হন বিএনপি নেতা, আটক ৩

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফুটবল বিশ্বকাপে সমর্থন ও জয় উদযাপনকালে হৈ-হুল্লোড় করায় এক যুবককে চড় মারেন বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমান। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে সালিশি বৈঠকে বসেন উভয়পক্ষ। বৈঠকে হাবিবুর রহমানের পক্ষে থাকা নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশাহকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান বাদশাহ। আর সাদ্দাম চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ওই সময় উপস্থিত থাকা তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন— শোয়েব, আরমান ও নয়ন।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান আগামীর সময়কে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদাবর নবোদয় হাউজিং এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল— সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এমনটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার আগেই আহত সাদ্দাম আদাবর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাটির প্রকৃত পটভূমি ও সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, গত মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদযাপন কেন্দ্র করে এ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। সেদিন জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের পর স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিল। তখন আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমান নবোদয় বাজারের ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে রিপনকে চড় দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে রিপনের পরিবার ও হাবিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে আরও একবার বিবাদ হয়। ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য বুধবার রাতে নবোদয় বাজারের রঞ্জুর দোকানে বিচার বসে। সালিশ শেষে সাদ্দাম ও তার সমর্থকরা নীরব ও তার বড় ভাইয়ের ওপর হামলার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এক পর্যায়ে রিপন, নীরব, পারভেজ, মাসুম ছুরি-চাপাতি নিয়ে হাবিবুর রহমানের পক্ষের লোক নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম ও সেক্রেটারি বাদশাহকে হাতে, পায়ে ও ঘাড়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানাচ্ছে, অভিযুক্ত রিপন, নীরব, পারভেজ, মাসুম কিশোর গ্যাং সদস্য এবং স্থানীয় ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিরাজের অনুসারী।
নিহতের ভাই সবুজ বলছিলেন, বাদশাহ প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। টাউন হল এলাকার রনির গাড়ি চালাতেন। আদাবর থানার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাবার নাম গফুর। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায়। আদাবর বি-ব্লক, ১ নম্বর রোডে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন বাদশাহ। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে বাদশার মরদেহ আদাবর এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করেনি বলে জানিয়েছে আদাবার থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম। তার ভাষ্য, নিহতের মরদেহ আজ দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দাফন-কাফন নিয়ে স্বজনরা ব্যস্ত থাকায় মামলায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত। এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করেছি।






