আইজিপি
মাদক সেবনে জড়িত পুলিশ সদস্যদের কোনো ছাড় নয়

ছবি: আগামীর সময়
পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, ‘মাদক আমাদের যুবসমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, ‘পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে আইজি’জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র/মাদক উদ্ধার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন পুলিশপ্রধান।
আইজিপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও পেশাদার বাহিনী। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আজকে পুরস্কারপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাদের সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি পুলিশের সব সদস্যকে দেশের কল্যাণে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।’
এসময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘পুরস্কার প্রাপ্তি শুধু একটি স্বীকৃতি নয়, এটি দায়িত্ববোধ। এই অর্জনগুলো আমাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি প্রত্যাশা করি আজ যারা সম্মাননা পাচ্ছেন তারা আগামী দিনে আরও সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।’
অনুষ্ঠানে গত ১ মার্চ ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ’ প্রদান করা হয়। আইজিপি তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ফলাফলের ভিত্তিতে গত ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রথম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ প্রথম, মাগুরা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও এপিবিএন তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ প্রথম, র্যাব-১৫, কক্সবাজার দ্বিতীয় ও র্যাব-২, ঢাকা তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে ডিবি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও মিরপুর বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।
২০২৫ সালে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ প্রথম, কক্সবাজার জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ প্রথম, শেরপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও গাজীপুর জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে র্যাব-১৫, কক্সবাজার প্রথম, র্যাব-৯, সিলেট দ্বিতীয় ও র্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে ওয়ারী বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও মতিঝিল বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘চ’ গ্রুপে হাইওয়ে পুলিশ প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় এবং এপিবিএন তৃতীয় হয়েছে।
শিল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে যৌথ মেট্রোপলিটন দল, দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে এপিবিএন দল এবং তৃতীয় হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ।




